হোম » সারাদেশ » সিরাজগঞ্জে ফ্লাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে ফ্লাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ

হুমায়ুন কবির সুমন: সিরাজগঞ্জ শহরের এম এ মতিন সড়কে অবস্থিত আমেনা গার্ডেনের ৮ম তলা বিশিষ্ট বিল্ডিয়ের ২য় তলার উত্তারাংশের ১২০০ স্কয়ার ফুটের ফ্লাট বিক্রির নামে প্রতারণা অভিযোগ উঠেছে ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেল শহরের দত্তবাড়ী মহল্লার এম এ মোতালিবের ছেলে।

এই ঘটনায় শহরের কোবদাস পাড়া মোঃ সাহেব আলীর স্ত্রী মোছাঃ রিনা পারভীন বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, আমেনা গার্ডেনের ৮ম তলা বিশিষ্ট বিল্ডিয়ের ২য় তলা উত্তারাংশের ১২০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাটটির মূল্য ২০ লাখ টাকা ধরে দুই চেকের মাধ্যমে ১১ লক্ষ টাকা অগ্রিম নিয়ে ২০২১ সালের ২১ মে সিরাজগঞ্জ জেলা নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত বিক্রয় চুক্তিনামা সম্পন্ন করে দেন ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেল।

পরবর্তীতে বাকী টাকা গ্রহন করে ফ্লাট দলিল করার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিল করতে গেলে জমির কোন কাগজপত্র উপস্থাপন না করায় দলিল করা সম্ভব হয় না। সেই সময় ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেল রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে টাকা ফেরতের অনেক চেষ্টা করলে টাকা ফেরত না দিয়ে নানা তালবাহানা করছে। বর্তমানে রাসেল আত্মগোপনে রয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগি মোছাঃ রিনা পারভীন বলেন, আমেনা গার্ডেনের ২য় তলা উত্তারাংশের ১২০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাটটির বিক্রির জন্য গত ৯ মে ২০২১ সালে এবি ব্যাংকের ১টি চেকের মাধ্যমে ৮ লক্ষ, অপর একটি চেকের ২ লক্ষ টাকাসহ বিভিন্ন সময়ে আরো ১ লক্ষ টাকা মোট ১১ লক্ষ টাকা নেন ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেল। পরবর্তীতে জমির রেজিষ্ট্রির নামে নানা প্রতারণা করেছে। এতে করে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানসিক নির্যাতনে আছি।

অভিযুক্ত ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেল জানান, আমেনা গার্ডেনে ২য় তলা উত্তারাংশের ১২০০ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাটটি আমার কেনা আছে। কিন্তু মালিক পক্ষ ফ্লাটটি বুঝে না দেওয়া মোছাঃ রিনা পারভীনকে বুঝে দিতে পারছিনা। সেই কারণে মোছাঃ রিনা পারভীন আমার নামে মামলা করছে। তিনি আরো বলেন, ঐ ফ্লাটের সকল কাগজপত্র আমার নামে রয়েছে।

আমেনা গার্ডেনের স্বত্তাধিকারী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আমেনা গার্ডেনের ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেলের নামে কোন ফ্লাট নেই। সে আমাদের আমেনা গার্ডেনের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেক লোকজনের নিকট থেকে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে। তিনি আরো বলেন, এই প্রতারণার কারণে ডাঃ মোঃ রাশেদুজ্জামান ওরফে রাসেল পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে এই ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, আমেনা গার্ডেন ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের পরিক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!