অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় রিংওয়েল পাম্প স্থাপন করা হয়। ঐ অর্থ বছরে ২৯টি রিংওয়েল বরাদ্দ ছিলো।
কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী জামানুর রহমানের যোগসাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাত্র ১০/১২টি রিং দিয়ে পাম্প স্থাপন করে চলে যায়। তবে সেই পাম্পগুলি সঠিকভাবে স্থাপন না করার কারণে পাম্পগুলো অকেজো হয়ে রয়েছে।
কিন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিয়ে গেছে নির্বাহী প্রকেীশলী জামানুর রহমানের সহযোগীতায়। ঐ সময় রিংওয়েল পাম্পগুলি স্থাপনের সময় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জামানুর রহমান নানা অনিয়ম করেন। রিংয়েল প্রাপ্ত ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে প্রধান প্রকৌশলীর বরাবর দুর্ণীতির অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগিরা।
ভুক্তভোগিরা জেলার রায়গঞ্জ নলকা বাজার এলাকায় রিংওয়েল পাম্প প্রাপ্ত শামীম তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন আগে রায়গঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে রিংওয়েল পাম্প পেয়েছিলাম।
কিন্তু যখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে তখন রিংগুলো সঠিক ভাবে স্থাপন করেনি। বার বার সাইডের ম্যানেজার রফিককে বলার পরেও তিনি কর্ণপাত করেননি।
পুরাতন টিউবয়েল রং করে কাজ শেষ করে। কিন্তু ঐ রিওয়েল দিয়ে কখনো পানি উঠেনি। শুধু শুধু যায়গাটি নষ্ট হয়েছে। অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
নলকা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর মোহাম্মদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে রিংওয়েল পাম্প পেয়েছি কাজের সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরাতন পাইপ এবং পুরাতন টিউবয়েল দিয়ে কাজ করে মাত্র কয়েকটি রিং বসায়।
বার বার বলার পরে ঠিকাদারের লোক রফিককে বললেও তিনি কথা শোনেন নি। ঐ পাম্প কোন কাজে আসেনি। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ করেছিলাম কিন্তু তিনি কিছুই করেন নি।
আরেকজন মেম্বর ইমান আলী জানান, পাম্প পেয়েছি কিন্তু রিং সঠিকভাবে না বসানোর কারনে মাত্র ২২টি রিং বসিয়ে কাজ শেষ করে চলে গেছে।
পাম্প স্থাপনের পর থেকেই আয়রন উঠে। ঐ পাম্প কোন কাজে আসে নি। রং করা টিউবয়েল আর মরিচা পরা পাইপ দিয়ে ঠিকাদার কাজ করেছে। ইঞ্জিনিয়ার বা অফিসের লোক কেও দেখতেও আসে নি। শুধু আমি না এখানকার যে সব মানুষ রিংওয়েল পাম্প নিয়েছে সবারি একই অবস্থা।
আমরা কি বলবো অফিসের লোককে ওরা ম্যানেজ করেই এই কাজ করেছে। এখন পাম্পগুলো সব অকেজো হয়ে গেছে।
জানা গেছে প্রতিটি পাম্পের জন্য ২৯টি করে রিং স্টিমেট ছিলো এবং নতুন পাইপ ও টিউবয়েল ছিলো। প্রতিটি রিংওয়েল পাম্পের জন্য প্রথম পর্যায়ে ৭৬ হাজার পরবর্তীতে ৬৫ হাজার বরাদ্দ ছিলো। অভিযোগের একটি কপি আসলে এই নিয়ে অনুসন্ধান করা হলে বেরিয়ে আসে এসব তথ্য।
রায়গঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারি প্রকৌশলী মেহিদী হাসান জানান, দীর্ঘদিন আগের প্রকল্প এটি। এই তথ্য দিতে সময় লাগবে। আপনারা অফিসে আসলে তথ্য দেওয়া যাবে।
পরে অফিসে গেলে তিনি তথ্য দিতে গড়িমসি করেন। অথচ ঐ অফিস থেকে কোন অর্থ বছরে কি বরাদ্দ হচ্ছে, কার অনুকুলে বরাদ্দ সকল কিছু রেজিষ্ট্রারে লিপিবদ্ধ থাকে বলে জানা গেছে।
আগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দুর্ণীতি আড়াল করতেই তথ্য দিতে গড়িমসি বলে ধারণা করা হচ্ছে। রিওওয়েল প্রাপ্তদের দাবি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে পাম্পগুলি আবার মেরামত করে সুপ্রিয় পানি ব্যবস্থা করার দাবী জানান ভুক্তযোগীরা।
এই বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, আমি নতুন এই জেলায় যোগদান করেছি। রিংওয়েল পাম্প কতগুলো বরাদ্দ ছিলো, কত টাকা ব্যয় আমি কিছুই জানি না। বিষয়টি আমি জেনে আপনাকে জানাবো।
আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক