হোম » সারাদেশ » নলকার সাবেক সচিব আরিফুলের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

নলকার সাবেক সচিব আরিফুলের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মো. আরিফুল ইসলাম খান এর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সহ জন্ম নিবন্ধন ও নাম-বয়স সংশোধনী সনদ প্রদানের সরকারী টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে সেই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ৭নং নলকা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের ১ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা অডিটের আপত্তি জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেনকে অবগত করেছি।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় তাকে গত ১৬ আগষ্ট জেলার চৌহালী উপজেলার স্থল ইউনিয়নে শাস্তিমূলক বদলী করা হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে ২৭ জুলাই নলকা ইউনিয়ন পরিষদে সচিব হিসেবে তিনি যোগদান করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, নলকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বারের সরলতার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ইউপি সচিব বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে। ইউপি সচিব মো. আরিফুল ইসলাম খান পরিষদে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি চালিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কমবয়সী নাবালিকা মেয়েদের বয়স বাড়িয়ে জন্মসনদ দেওয়ার মাধ্যমে বাল্যবিবাহকে সহযোগিতা করা, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ২০১৮ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের ২০৮টি ভিজিডি কার্ডের চাল উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাৎ, ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পরিষদের এক পার্সেন্ট বরাদ্দ করা টাকা খরচের হিসাব দিতে গড়িমসি করা, ইউপি পরিষদের আদায় করা ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সের নির্ধারিত টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়া, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের টাকা সংশ্লিষ্ট কোডে জমা না দেওয়া বিভিন্ন অজুহাতে আত্মসাৎসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সচিব মো. আরিফুল ইসলাম খান জানান, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো আদৌ সত্য নয় বলে তিনি বলেন।

সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক বিষয়টি আমাকে অবগত করেছেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে সচিবের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!