
হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রায় ২বছর পর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার নেওয়ারগাছার চাঞ্চল্যকর বেলাল হোসেন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ২ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১ জন বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
আটকৃতরা হলেন উল্লাপাড়া উপজেলার নেওয়ারগাছার গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে গার্মেন্টকর্মী নজির আলী (৩৭), মো: বুদ্দু মিয়ার ছেলে আলমাছ (৩২)। তারা বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন।
মামলা সূত্রে জানাযায়, উল্লাপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের নেওয়ারগাছা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন ছেলে মো: বেলাল হোসেন (৫০) কে গত ২০ নভেম্বর-২০২০ সালের রাত্রী সাড়ে ৭টার দিকে জখম অবস্থায় করোতয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে আফসার ও শুকুর আলীর বাড়ীর মাঝ খানে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করে।
মামলা সূত্রে জানাযায়, উল্লাপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের নেওয়ারগাছা গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীন ছেলে মো: বেলাল হোসেন (৫০) কে গত ২০ নভেম্বর-২০২০ সালের রাত্রী সাড়ে ৭টার দিকে জখম অবস্থায় করোতয়া নদীর পশ্চিম পাড়ে আফসার ও শুকুর আলীর বাড়ীর মাঝ খানে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করে।
মামলার বাদী মো: পিপুল হোসেন, চাচাতো ভাই শওকাত আলী ও ফুপাতো ভাই মো: আব্দুর রাজ্জাক খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে পৌছে দেখতে পায় বেলাল হোসেন মাটিতে পড়ে আছে। তার গলায়, মাথায়, কপালে, মুখে, কাধে ফুলা ও কালশিরা জখম, ডান হাতের কবজির উপর কাটা রক্ত দেখতে পায়। এসময় চাচার কাছে তারা জানতে চায় কে মারধর করেছে তিনি জানান, নদীর পাড়ে দরবেশের চা দোকানে চা খেয়ে বাড়ী ফেরার পথে ৪ জন কালো রং এর বোরকা পরিহিত অজ্ঞাতনামা লোক রড় ছোড়া লাঠি দা দিয়ে এলাপাথারি ভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায়।
পরে তাকে উল্লাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে তার জখমী অবস্থা আশংঙ্খাজনক হলে ডাক্তার তাকে বগুড়ায় শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফাট করেন। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা সরোয়ারদী হাসপালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ নভেম্বর ২০২০ ইং তারিখ রাত্রী সাড়ে ১২ টার দিকে বেলাল হোসেন মারা যায়। ঢাকা থেকে বেলাল হোসের লাশ নিজ গ্রামের বাড়ী উল্লাপাড়ার গ্রামের বাড়ীতে আনা হয়। এসময় স্থানীয় লোকজন থান পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ এসে লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন।
ময়না তদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা যায় বেলাল হোসেনকে মারপিট ও গলায় মোড়ন দিয়ে ও হাত দ্বারা গলা চেপে ধরে মারধর করে। এই যখমের ফলে তিনি মারা গেছেন বলে জানা গেছে। মামলাটি প্রথমে ওসি দীপক কুমার সাহা করেন তার বদলী হওয়ার পর ০৮/০৯/২০২১ তারিখে উল্লাপাড়া থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) কে তদন্তের ভার দেওয়া হয়। পরিবর্ততে মামলাটির কোন ক্লু খুজে না পাওয়ায় তখনকার পুলিশ সুপার মহোদয় মামলাটি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সিরাজগঞ্জ কে গত ৩ ফেব্র“য়ারী ২০২২ ইং তারিখে তদন্তের ভার দেওয়া হয় এবং এসআই খোকন চন্দ্র সরকার জেলা গোয়েন্দা শাখা সিরাজগঞ্জ মামলাটি তদন্ত করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর এসআই খোকন চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে একটি চৌকষ টীম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের উল্লাপাড়া উপজেলার নেওয়ারগাছার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর এসআই খোকন চন্দ্র সরকারের জানান, চাঞ্চল্যকর বেলাল হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে হতে আসামি নজীর আলী বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উক্ত খুন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী মোছা শিউলী খাতুন (৩৫) আদালতে জবানবন্দী প্রদান করেন। জবানবন্দিতে তারা বলেন, জমি জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তাকে মারা হয়েছে। পরিকল্পিত ভাবে বেলাল হোসেনকে রামদা দিয়ে হাতে পায়ে কোপানো ও মারপিট ও গলায় মোড়ন দিয়ে ও হাত দ্বারা গলা চেপে ধরে মারধর করে তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা আরো কয়েক জনের নাম বলেছে। মামলাটির তদন্তের সার্থে বাকীদের নাম গোপন রাখা হয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানান।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান