
সহদেব সূত্রধর সায়ন, বাসাইল, টাঙ্গাইলঃ বছর ঘুরে আমার এলো সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপুজা, তাই তো বাংলার ঘরে ঘরে বইছে পূজার আমেজ, হিন্দু বাড়িতে তৈরি হচ্ছে বাহারি রকমের মিষ্টি নাড়ু ও মোয়া। সেই সাথে চলছে পূজা প্যান্ডেলের কাজ আর প্রতিমা শিল্পীরা ব্যস্ত রং তুলি নিয়ে দেবী দূর্গাকে নিপুণ হাতে তৈরি করতে। নরম কাদা-মাটি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিল তিল করে গড়ে তোলা দশভুজা দেবী দুর্গার প্রতিমায় ভরে উঠেছে প্রতিটি মণ্ডপে মণ্ডপে। নানান রঙ আর তুলির আঁচরে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর প্রতিচ্ছবি। তাই যেনো ঘুম নেই প্রতিমা শিল্পীদের। এ যেন প্রতিমা শিল্পীদের মায়ার বাধন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গা পুজা। রঙের আঁচড় আর সাজসজ্জায় দুর্গাদেবীকে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টাঙ্গাইলের বাসাইলের প্রতিমা শিল্পীরা।
আগামী ১ অক্টোবর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে দেখা গেছে, কেউ মাটির কাজ শেষ করে দেবীর গায়ে দিচ্ছেন তুলির আঁচড় আবার কেউ ব্যস্ত প্রতিমার গায়ে কাঁদা মাটির প্রলেপ লাগাতে। তাদের যেনো ধম ফেলার ফুসরত নেই। রাত দিন কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
বাসাইল সাহা পাড়া পূজা মন্ডপে সরোজমিনে দেখতে পাই প্রতিমা শিল্পীরা রং তুলিতে ব্যস্ত টাঙ্গাইল সদর উপজেলার তারাটিয়া এলাকার প্রতিমা শিল্পী অজিত পাল। তিনি কাজের ফাঁকে বলেন, বাবা দাদার পেশা আমার প্রাণের স্পন্দন। ৩০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করি। এবছর ১০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। টাঙ্গাইল সদরে ৭ টি, নাগরপুর ১টি, বাসাইল ১ টি ও গাইবান্ধাই ১টি। প্রতিমার মজুরি ৫০-১ লাখ টাকা। মাটির কাজ শেষ করেছি এখন রঙ তুলির কাজ করে যাচ্ছি রাতদিন।
সদর ইউনিয়নের মিরিকপুর রামপ্রসাদ সরকারের সর্বজনীন পূজা মন্ডপে দেখতে পাই দেবীদূর্গাকে অলংকার ও অস্ত্রেসজ্জায় সাজাচ্ছেন প্রতিমা কারিগর। বাসাইলের শিরোমনি পালের ছেলে মহাদেব পাল বলেন, আমি স্বর্ণকারিগর, বাবার কাজের চাপ থাকায় সাহায্য করতে আসছি, এবার ১০টি প্রতিমার গড়ার কাজ পাইছি, বাবা ও ভাইয়ের পক্ষ সময়ের মধ্যে শেষ করা সম্ভব না। তাই রং, কেশ, অলংকার ও অস্ত্র পরানোর কাজ করে যাচ্ছি আমি। এছাড়াও আরও ৫টি প্রতিমা রঙ করার বাকি আছে। ৩-৪ দিনের মধ্যে এগুলোর কাজও শেষ হবে। আমরা রাত দিন জেগে কাজ করছি। কাজ করতে গিয়ে আমাদের অন্য কোনো দিকে নজর দেওয়ার সুযোগ নেই। খাওয়া দাওয়ারও কোনো ঠিক নাই।
বাসাইল পাল পাড়ার প্রতিমা তৈরির কারিগর দুলাল পাল বলেন, আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করছি। এবার আমি কারখানায় বন্ধ করে ১২টি প্রতিমা গড়ার কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে খড়, বাঁশ, মাটি, লোহাসহ সব কিছুর দাম আগের তুলানায় অনেক বেশি। সব কিছুর দাম বাড়ার কারণে আমাদের এখন পোষে না।আমার কারখানায় এবার প্রতিমা তৈরি করছি না, দুই-তিনজন কর্মচারী নিয়ে মন্ডপে মন্ডপে প্রতিমা বানাচ্ছি। জাতিগত কাজ এজন্য করতে হয়। সামনে ৩০ সেপ্টেম্বর পঞ্চমী। পঞ্চমীর রাতের আগেই আমাদের প্রতিমার সব কাজ শেষ করতে হবে। এজন্য আমরা এখন খুব ব্যস্ত সময় পার করছি।
বাসাইল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বাসুদেব সূত্রধর বলেন, এ বছর বাসাইল উপজেলায় ছয় ইউনিয়ন, এক পৌরসভায় মোট ৬২ মন্ডপে সর্বজনীন ভাবে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪ টি পূজামণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ, ৬ টি কম ঝুকিপূর্ন ও ৪২ টি ঝুকিহীন পূজামণ্ডপ রয়েছে। গত মঙ্গলবার মহালয়ের মধ্যে দিয়ে পুজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে গেছে, এ জন্য মন্দিরে বিভিন্ন কাজ ইতোমধ্যেই প্রায় শেষের দিকে। বাসাইল উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে আমাদের সভাপতি সম্পাদক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন । প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আমাদের ইউনিয়ন সমূহের পূজা মন্ডপ পোরসভায় ১৫, সদর ইউনিয়ন ১২, কাউলজানী ৫, কাঞ্চনপুর ৫, ফুলকী ৯, হাবলা ৭, কাশিল ১০টি পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২