হোম » সারাদেশ » রৌমারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আয়াকে কু-প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে         

রৌমারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আয়াকে কু-প্রস্তাব দেয়ার অভিযোগে         

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একজন মহিলা কর্মচারী ‘আয়া’কে কু-প্রস্তাব, চাকুরি থেকে বরখাস্তসহ নানাভাবে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এর প্রতিকার চেয়ে সোমবার (২৭ জুন) উপজেলা নিবাহর্ী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকতার্ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই আয়া। অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম উপজেলার দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম তার প্রতিষ্ঠানের একজন মহিলা ‘আয়া’কে বিভিন্ন সময়ে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছেন।
এতে ওই আয়া কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার চাকুরি থেকে বরখাস্ত, অশালীন কথাবার্তা এবং স্মার্ট ফোনে ইউটিউবে অশালীন ছবি দেখানো বাধ্য করা ও লাথি মেরে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন ওই প্রধান শিক্ষক।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, ‘আয়া’কে কু-প্রস্তাবসহ নানা ধরণের হুমকি ধামকি দিচ্ছে প্রধান শিক্ষক। এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের আয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. আলমগীর হোসেন আলম বলেন, ওই আয়া আমাকে মৌখিক অভিযোগ দিয়েছে। এব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলব। তিনি আরও বলেন,একটি দায়িত্বশীল চেয়ারে বসে এ ধরনের আচরণের বিষয় তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দাঁতভাঙ্গা দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ হয়েছে তা মিথ্যা।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ওই মহিলা কর্মচারী সম্মানী’র টাকা কম হওয়ায় এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি’র সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রেজাউল করীম বলেন, এখনও এ বিষয়ে আমাকে ওই ‘আয়া’ কিছুই জানায়নি। আমি অসুস্থ থাকায় ঠিকমতো প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ দিলে বিষয়টি স্কুলে বসে দ্রুত সমাধান করব।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
এর প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সরেজমিন ওই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে।এ প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা নিবার্হী অফিসার আশরাফুল আলম রাসেল (ভার:) জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, প্রতিবছর বিদ্যালয়ের ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায়, প্রতিষ্ঠাতা না হয়েও একজনকে প্রতিষ্ঠাতা বানানোও অভিযোগ রয়েছে। এর আগে ওই বিদ্যালয়ের ঘরের টিন, রড চুরির অভিযোগ উঠে। স্থানীয় সাংবাদিককে নানা ভাবে হুমকিও দেন এ অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক।
অপর দিকে আইনকে তোয়াক্কা না করে এক গ্রাম্য সালিশে তিন বোনকে থুথু খাওয়ানোর অভিযোগ রয়েছে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এরপরেও চারতলা নতুন ভবন ও শ্রেণী কক্ষের জানালা বন্ধ করে দোকান ঘর নির্মাণের জন্যে মাটিও ভরাট করেছেন। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে দোকান ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!