
লতিফ রানা, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, মেয়র বলেন, আগে মেয়েরা কথা বলতে পারতো না। রিকশা বা ঘোড়ার গাড়িতে চড়লেও চারদিক দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। সেই সময় একজন নারীর লেখাপড়া করা কিংবা প্রতিবাদী হওয়া সহজ ব্যাপার ছিল না। এখনও আমরা প্রতিবাদ করতে ভয় পাই। অথচ সেই সময় এত কঠিন মুহুর্তে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে মমতাজ বেগমের দেশপ্রেম অনেক প্রখর ছিল। ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস। তবে আমি মনে করি, প্রতিদিনই আমাদের নারী দিবস। যে নারী ঘরে থাকেন তিনিও অনেক কাজ করেন। নারীরা জন্মগতভাবে যোদ্ধা। যে নারী সন্তানকে জন্ম দিতে পারে সে পিছিয়ে থাকতে পারে না। সাহসের সাথে কাজ করতে হবে। তোমাদের ডিকশনারি থেকে না শব্দটি উঠিয়ে দিতে হবে।
গতকাল রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ‘ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগম মেধাবৃত্তি প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, কেন জানি মনে হয়, আগের চেয়ে হালকা ব্যক্তিত্ব আর ভালোবাসা নিয়ে এখন আমরা ঘুরে বেড়াই। যাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এত শক্তিশালী, তাদের সাথে তুলনা করলে মনে হয় আমরা হারিয়ে যাচ্ছি। আমরা হারিয়ে যেতে চাই না। শিক্ষার্থীদের গোছানো কথাবার্তা শুনে আশাবাদী হই। আশা করি, সবাই সত্য ও ন্যায়ের পথে আসবে। যে অসৎ সে সত্য কথা বলতে ভয় পায়। অন্যায় কাজ করলে সাহস থাকে না। সাহস নিয়ে অকপটে সত্য কথা বলতে হবে। দেশপ্রেম আমাদের ভেতর জাগাতে হবে। প্রীতিলতা, বেগম রোকেয়ার কথা চিন্তা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা মাথায় রাখতে হবে। তিনি নারীদের অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। এজন্য তাকে স্যালুট দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমি যখন এই মর্গ্যান স্কুলে লেখাপড়া করি তখন মমতাজ বেগমের কথা জানতাম না। পরে যখন আমি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হই, তখন নাগরিক কমিটির কাছ থেকে জানতে পারি। সে সময় হয়তো অনেকেই তাঁর সম্পর্কে জানতো না। কারণ, তাঁর ইতিহাস সংরক্ষিত ছিল না। পরে যখন একটি রাস্তার নামকরণ করার সময় মমতাজ বেগমের নাম আলোচনায় আসে তখন অন্য সকলের সাথে আমিও এক বাক্যে রাজি হয়ে যাই। পরে স্কুলের পাশের রাস্তাটিই মমতাজ বেগমের নামে নামকরণ করা হয়। আমার নিজের মায়ের নামও মমতাজ বেগম। তিনি বলেন, আমাদের সমাজে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তির কারণে নারীদের অনেক সময় পিছিয়ে পড়তে হয়। মমতাজ বেগমের কথা চিন্তা করবে এবং নারায়ণঞ্জ শহরে তোমাদের পাশে একজন আইভী আছে, এইটা মাথায় রাখবে। পুরুষ মানুষদেরও কিন্তু বিভিন্ন প্রতিক‚লতার মাঝখান দিয়ে, রাজনৈতিক বাধার মধ্য দিয়ে আগাতে হয়। সততার কথা যেন আমরা ভুলে না যাই। অন্যায় যেন কখনও না করি। অন্যায়কে যেন আমরা না বলতে পারি।
মেয়র দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মর্গ্যান স্কুলের জমি তৎকালীন পৌরসভা দিয়েছে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল, নারায়ণগঞ্জ কলেজ, তোলারাম কলেজসহ বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জায়গা দান করেছে। কিন্তু কালেভদ্রে এমন হয়ে যে, ম্যানেজিং কমিটিতে তৎকালীন পৌরসভা বা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউকেই রাখা হয়নি। আমি মনে করি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এইটা রাখা উচিত। আমি কাউকে সম্মান না জানালে ভবিষ্যতে আমাকেও কেউ সম্মান জানাবে না। এ সময় ১৬ জন শিক্ষার্থীকে মমতাজ বেগম মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এই সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের জ্যেষ্ঠ নাতনি ডা. ফারজানা ইসলাম রূপা, মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, ভাষাসৈনিক মমতাজ বেগমের কনিষ্ঠ দৌহিত্র ওয়াসীম ইসলাম বাবু, কনিষ্ঠ নাতনি রিজওয়ানা মনির গোপা, মর্গ্যান গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক লায়লা আক্তার, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবীব, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক কবির ইউ চৌধুরী।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে বিশেষ অবদান রাখার কারণে নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী মর্গ্যান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম ২০১২ সালে মরনোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল