
রেজাউল ইসলাম তুরান, খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার রূপসা উপজেলা যেখানে লাখো মানুষের বসবাস। তাদের জন্য রয়েছে একটি মাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারী সংকটসহ নানাবিধ কারনে ভেঙে পড়েছে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবা। যে কারণে নানা সংকটে রয়েছে হাসপাতালটি।
বর্তমানে হাসপাতালটিতে ২২ জন ডাক্তারের স্থলে মাত্র ৫ জন ডাক্তার হাজার হাজার রোগীদের সেবাদান করছেন। তাছাড়া কর্মকর্তা এবং কর্মচারী ১৫০ জনের ৪২টি পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন এবং ল্যাবের কাজ বন্ধ থাকায় রোগীদের খুলনাসহ পার্শবর্তী উপজেলায় গিয়ে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে রিপোর্ট করাতে হয়। টেকনিশিয়ান না থাকায় গত ৪ মাস ধরে করোনা ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকাসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেও এর কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন ডাক্তারের স্থলে ১৭টি শূন্য পদ রয়েছে। জুনিয়র কনস্যালট্যান্ট সার্জারী, জুনিয়র কনস্যালট্যান্ট গাইনী, জুনিয়র কনস্যালট্যান্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনস্যালট্যান্ট এ্যানেসথেশিয়া, জুনিয়র কনসালট্যান্ট শিশু, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ইএনটি (নাক-কান-গলা), জুনিয়র কনসালট্যান্ট অর্থোপেডিক্স, জুনিয়র কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজী, জুনিয়র কনসালট্যান্ট চক্ষু, জুনিয়র কনসালট্যান্ট চর্ম ও যৌন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন (ইউএইচসি), মেডিকেল অফিসার (সমমান), ইনডোর মেডিকেল অফিসার, ইমারজেন্সী মেডিকেল অফিসার, প্যাথলজিস্ট, এনেসথেটিস্ট পদগুলি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
তাছাড়া প্রধান সহকারী, হিসাব রক্ষক, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার, উপ-সহকারী কাম মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি), ফিজিও, কার্ডিওগ্রাফার, কাম্পউন্ডার, সহকারী নার্স, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-২ জন, স্বাস্থ্য সহকারী-১১ জন, হালবাল সহকারী-১ জন, সিএইচসিপি-২, ল্যাব এ্যাটেনডেন্ট, ওটি বয়, ইমারজেন্সী এ্যাটেডেন্ট, অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, মশালচী, নিরাপত্তা প্রহরী, মালী ১ জন করে এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মী-৩ জনের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
যে ৫ জন ডাক্তার বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন এর মধ্যে অতি সম্প্রতি আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ উজ্জল কুমার পাল এবং ডাঃ সরফুদ্দিন আহম্মেদ এফসিপিএস করার জন্য খুলনায় প্রশিক্ষণে যুক্ত হবেন। এক্ষেত্রে রোগী দেখবেন মাত্র ৩ জন ডাক্তার।
অপরদিকে এক্স-রে মেশিন, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নষ্ট এবং টেকনিশিয়ান দীর্ঘদিন না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি হচ্ছে নিয়মিত। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করোনা টেস্টের ল্যাব। সারাদেশে করোনার ঝুঁকি বাড়লেও টেকনিশিয়ান না থাকায় গত ৪ মাস ধরে ল্যাবের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এমতাবস্থায় রূপসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা পরীক্ষাও যথারীতি বন্ধ আছে।
হাসপাতালের ইনডোরের বাথরুমের অবস্থা শোচনীয় হওয়ায় রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। দন্ত বিভাগে সার্জন থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় দিন দিন দন্ত বিভাগের দামী বেডসহ টুলস গুলো প্রায় নষ্ট হওয়ার পথে। চিকিৎসা নিতে আসা ৩নং নৈহাটি ইউনিয়নের বাসিন্দা হারুন মোল্যা জানায়, হাসপাতালে ডাক্তার কম থাকায় আমরা উত্তম সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।
হাসপাতালের অপারেশন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, রোগী দেখতেই ডাক্তারদের হিমসিম খেতে হয়। এ কারণে জনবলের অভাবে ২০১৭ সাল থেকে হাসপাতালে অপারেশন বন্ধ আছে। এতে অপারেশনে ব্যবহৃত সকল প্রকার টুলস বিনষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বারবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পত্র মারফত অবহিত করা হলেও ডাক্তার সংকট কাটছেনা। এ ব্যাপারে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ