
আজিজুর রহমান, হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয় তলা নির্মাণাধীন ছাত্রী হলে ডাইনিং, ক্যান্টিন, জিমনেসিয়াম, কমনরুম এবং রিডিং রুমের সু-ব্যবস্থা রয়েছে। থাকছে না গণরুম এবং প্রয়োজনবোধে ভবিষ্যতে লিফটের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন হল সংশ্লিষ্টরা। বহুল প্রত্যাশিত এই হলে কবে নাগাদ শিক্ষার্থী উঠাতে পারবে তা নিদিষ্ট সময় বলতে না পারলেও নবনির্মিত হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মোছাঃ আফরোজা খাতুন বলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হল আমাদের বুঝিয়ে দিলেই আমরা শিক্ষার্থী উঠানোর সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবো।
এদিকে নির্মাণাধীন হলের কাজ করছে এম/এস.এমবি এলএস-জেভি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।প্রকল্পটি শেষ করতে তাদের ৫ মাস ২ দিন সময় বেধে দেয়া হয়। বেধে দেওয়া মেয়াদ শেষ হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় অতিরিক্ত প্রথম মেয়াদে ২০২০ জানুয়ারি থেকে ২০২১ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়। জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারে নাই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এজন্য আবার দ্বিতীয় মেয়াদে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ডিসেম্বরের শেষ করতে না পারায় আবার তৃতীয়বারের মতো সময়বৃদ্ধির জন্য চিঠি পাঠিয়েছেন টিকাদান প্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২১ কোটি ৭১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৮ শত পয়ষট্টি টাকা ব্যয়ে মূল ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। তবে বৈদ্যুতিক কাজ চলমান রয়েছে। ভবনের প্রতিটি কক্ষ ৪ আসন বিশিষ্ট হবে বলে জানা যায়। প্রধান ভবন ছাড়াও পৃথকভাবে তিনতলা এবং দুইতলা বিশিষ্ট আলাদা দুইটি ভবন তৈরি করা হয়েছে। তিনতলা ভবন এবং হলের প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তিনতলা ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলা ব্যবহৃত হবে ডাইনিং এবং তৃতীয় তলায় জিমনেশিয়াম ও কমনরুমের ব্যবস্থা করার পরিকল্পা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অফিস রুমের দ্বিতীয় তলায় রিডিং রুমের ব্যবস্থা থাকছে।
এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রোজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার সেলিম চৌধুরী বলেন, ছয়তল বিশিষ্ট মূল ভবনসহ তিনতলা ও দুইতলা ভবনের কাজ এ মাসেই শেষ করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে পারবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে পাইলিং, অতিবৃষ্টি ও করোনার জন্য বিভিন্ন সময় কাজ বন্ধ থাকার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমাকে জানিয়েছে এ মাসেই তারা কাজ শেষ করবে। তবে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আগামী মার্চ পর্যন্ত নির্মাণাধীন ছাত্রী হলের প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে বলেছে।
নবনির্মিত হলের হল সুপার অধ্যাপক ড. মোছাঃ আফরোজা খাতুন বলেন, কবে শিক্ষার্থী উঠানো হবে তা নিদিষ্টভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাদের হল বুঝিয়ে দিলেই আমরা শিক্ষার্থী উঠানোর কার্যক্রম শুরু করবো। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডাঃ মো. ফজলুল হক জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্রুত হলের কার্যক্রম শুরু করার জন্য আমরা হল সুপার নিযুক্ত করেছি। অতিশীঘ্র শিক্ষার্থী উঠানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল