
মোঃ কবির হোসেন, (সোনারগাঁ) নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনায় সেই পালানো আসামিকে ২৪ ঘন্টায়ও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আসামিকে দিয়ে গাড়ি চালানোয় সে কৌশলে গাড়ি খাদে ফেলে নিজে পালিয়ে যায়। এতে দুই এসআইয়ের মৃত্যু ঘটলেও পালিয়ে যায় আসামি। গত সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখনো আসামি পলাতক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, এ ঘটনায় আসামি এখনো পলাতক আছে। আসামির কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পানিতে পড়ে যাওয়ায় কিছু গলে গেছে, বাকিগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর রাতেই এসপি জায়েদুল আলমসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সোমবার মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে সোনারগাঁ থানার এসআই নুরুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করা হলেও দুই পুলিশ কর্তকর্তা নিহতের ঘটনায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বিস্তারিত আজ বুধবার প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। আসামী গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এর আগে, সন্ধ্যায় দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দুই এসআইকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও আরো এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছে। আহত এএসআইকে মুমূর্ষু অবস্থায় রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতরা হলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার মুনসুরাবাদ গ্রামের কাজী নুরুল ইসলামের ছেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও গোপালগঞ্জের চরভাটপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে এসএম শরীফুল ইসলাম। তারা সোনারগাঁ থানায় কর্তরত ছিলেন।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গোপন সূত্রে খবর ছিল টেকনাফ থেকে ৫০ হাজার ইয়াবার একটি চালান আসছে। এ খবর পেয়ে সোনারগাঁয়ের মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায় পুলিশ। এ সময় আসামির গাড়িকে সিগন্যাল দিলে একজন কনস্টেবলকে আহত করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের আরেকটি টিম মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ধাওয়া করে আসামি আলমগীর হোসেনকে গাড়ি ও ৪২ হাজার ইয়াবা ট্যাবরেটসহ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারের পর আসামিকে নিয়ে তারা সরাসরি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চলে যান। এ সময় আসামিকে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে সেখানে যান পুলিশ। সংবাদ সম্মেলন শেষে আসামিকে নিয়ে নীল রংঙের প্রাইভেটকার (ঝালকাঠি গ-১১-০০০৪) থানায় রওয়ানা দেন দুই এসআই ও এক এএসআই। তবে, তাদের তিনজনের কেউই গাড়ি চালাতে পারেন না ফলে আসামিকে দিয়েই গাড়ি চালানো হয়। এএসআই রফিকুল ইসলাম আসামীর সঙ্গে সামনের আসনে। এসআই কাজী সালেহ আহম্মেদ ও এস এম শরিফুল ইসলাম পিছনের আসনের বসে ছিলেন। আসামি গাড়ি চালিয়ে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় এলে সুযোগ বুঝে তিনি গাড়ি থেকে কৌশলে লাফিয়ে পড়ে গাড়ি খাদে ফেলে দেয়। এতে দুই এসআই মারা যান ও এএসআই গুরুতর আহত হন। এসময় আসামি আলমগীর হোসেন পালিয়ে যায়।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সুজন কুমার হালদার বলেন, দূর্ঘটনা কবলিত প্রাইভেটকারটি সেন্ট্রাল লক করা ছিল। ধারনা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে এ লকটি করা হয়েছে। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম শফিকুল ইসলাম জানান, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং শেষে সোনারগাঁ থানায় কর্মরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী সালেহ আহম্মেদ, এসএম শরিফুল ইসলাম ও সহকারী উপ-পরিদর্শক(এএসআই) রফিকুল ইসলাম মাইক্রোবাস যোগে থানায় ফিরছিলেন। পথে সোনারগাঁয়ের দত্তপাড়া এলাকায় তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি খাদে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কাজী সালেহ আহম্মেদ ও শরিফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল