
মোঃ মোকাদ্দেস হোসাইন সোহান, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকার খাল, বিল, নদী- নালা, পুকুর, ডোবার পানি কমে যাচ্ছে। গ্রাম- গঞ্জে চলছে শ্যালো মেশিন দিয়ে ডোবা- নালা সেচেঁ চলছে মাছ ধরার ধূম। পানি শেষ হতেই শুরু হয় মাছ ধরার পালা। শিশু, কিশোর, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ অংশ নিচ্ছে অনানুস্ঠানিক এ মাছ ধরার উৎসবে। মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, থালা, বাটিসহ বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম। এমনকি কেউ কেউ খালি হাতেই নেমে পরছেন মাছ ধরার জন্য। সারারাত শ্যালোমেশিন দিয়ে পানি শেষ করে সকাল থেকে প্রায় দুপুর পর্যন্ত চলে গ্রামীণ ঐতিহ্য মাছ ধরার উৎসব।
পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্বীয়- স্বজনদের খাওয়ার জন্য বাড়ি বাড়ি মাছ উপহার পাঠাইয়া দিয়ে অতিরিক্ত মাছ হাটবাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ট্যাংরা, কঁই, টাকি ও শিং মাছই বেশি ধরা পড়ে। মিলছে কিছু কিছু শোল মাছও। এসব মাছ বর্ষাকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভেসে এসে ডোবা, পুকুর, খাল, বিল ও নিচু জমিতে আশ্রয় নিয়। এই সময়ে ধরা পড়ছে এসব মাছ। গতকাল উপজেলার গ্রামপাঙ্গাসী চাঁনপাড়া গ্রামের একটি ডোবায় সকাল থেকে মাছ ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন বয়সের শৌখিন মৎস্যশিকারীরা। গ্রামপাঙ্গাসী গ্রামের শ্যালোমেশিন মালিক মোঃ আব্দুল মান্নান ও মোঃ শাহীন সরকার বলেন, টাকার বিনিময়ে আমরা শ্যালোমেশিন দিয়ে অন্যের পুকুর সেঁচে দিই।
আবার অনেকেই ডোবা, নালা, পুকুর, খাল, বিলের অর্ধেক মাছও দিয়ে থাকেন টাকার পরিবর্তে। এদিকে উপজেলার গ্রামপাঙ্গাসী মিরের দেউলমূড়া গ্রামের হাফেজ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আগে উপজেলার বিভিন্ন বিলে মাছ ধরা হবে মাইকে ঘোষনা দিয়ে সবাই একত্রিত হয়ে মাছ ধরার উৎসবে নেমে পড়তো পানিতে। একত্রিত ভাবে মাছ ধরার মজাটাই ছিল আলাদা। কিন্তু দিন দিন দলবদ্ধ হয়ে মাছ ধরার এমন ঐতিহ্য প্রায় হাড়িয়েই যাচ্ছে। তার পরেও থেমে নেই গ্রাম- গঞ্জের ডোবা, নালা, খাল, বিলে গ্রামীণ ঐতিহ্য মাছ ধরার উৎসব।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ