
রায়হান আলীঃ পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকান্ডে বদলে গেছে সিরাজঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার গ্রামীণ জনপদের চিত্র। চলনবিল অধ্যুষিত এ উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিটি গ্রামেই নির্মিত হয়েছে অসংখ্যা পাকা রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ-কালভার্ট। বিল জনপদের ফসলের মাঠের বুক চিরে নির্মিত কনর্কিটের রাস্তায় চলছে আধুনিক সব যানবাহন। রাস্তাঘাট,ব্রীজ-কালভার্টের উন্নয়নের ফলে ঘোর পল্লী থেকে যানবাহনে চড়ে গন্তব্য যাচ্ছে মানুষ। কৃষকরা তাদের খামারে উৎপাদিত দুগ্ধ সহ কৃষি পণ্য মিল কারখানা,হাট- বাজারে আনা নেয়া করতে পারছে সহজেই। একযুগ আগেও যা ছিল এই জনপদের মানুষের কাছে স্বপ্ন। বর্তমান সরকার আমলে এ উপজেলার প্রতিটি এলাকাতেই এমন পরিকল্পিত রাস্তাঁঘাট,ব্রীজ কালভার্টের উন্নয়নে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। গ্রামে বসেই মানুষ পাচ্ছে শহরের সকল সুযোগ সুবিধা।
উল্লাপাড়া উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিঃমিঃ দুরে মোহনপুর ইউনিয়নের কালিয়াকৈড় ও সুজা গ্রাম। বন্যা কবলিত চলনবিল অধ্যুষিত দূর্গম এ গ্রাম দুটি কৃষি ও গবাদিপশু সমৃদ্ব। এখানে প্রায় প্রায় ৭ হাজার মানুষের বসবাস। যাতায়েত বলতে এখানে মাত্র একটি মাটির রাস্তাই ছিল তাদের ভরসা। বন্যায় সেটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল করাই ছিল দায়। রাস্তা খারাপ থাকায় কৃষকরা সার-বীজ সহ মালামাল আনা নেয়া করতে পারতেন না। খামারে উৎপাদিত দুগ্ধ মিল কারখানায় নেয়া যেত না। কৃষকরা উৎপাদিত কৃষি পণ্য হাট বাজারে নিয়ে বিক্রিও করতে পারতেন না। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে মার খাচ্ছিলেন।
এখানকার ছেলে মেয়েরা শহরের স্কুল কলেজে যেতে পারতো না। এমনকি দূর্গম এলাকা হওয়ায় ছেলে মেয়েদের বিয়ে পর্যন্ত হচ্ছিল না। একই চিত্র ছিল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৫ কিঃমিঃ দুরে অবস্থিত গজাইল,খোদ্দ গজাইল, চয়ড়া, ছোট তরফ বায়রা, ভায়রা, চান্ডালগাঁতী, আলীগ্রাম ও সেনগাঁতী গ্রামের মানুষের। চলনবিল অধ্যুষিত এসব গ্রামে যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ থাকায় মানুষ যুগের পর যুগ একই রকম দূভোর্গে ছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব এলাকার ফসলের বুক চিরে নির্মিত হয়েছে কনর্কিটের আধুনিক সাবমার্জিবল (ডুবো) পাকা সড়ক। যেটি বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা। শুকনো মৌসুমে সেখান দিয়ে যানবাহন ও মানুষে চলাচল করে। এতে দুর হয়েছে মানুষের সব দূভোর্গের। বদলে গেছে মানুষের জীবন।
প্রত্যন্ত ঘোর পল্লী থেকে এখন মানুষে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে চড়ে দিন রাত গন্তব্য চলে যেতে পারছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সহ খামারের দুগ্ধ মিল কারখায় বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছে। কালিয়াকৈড় গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্বা রুহুল আমিন খসরু জানান,বার্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উল্লাপাড়ার সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম প্রধানমন্ত্রীর নিবার্চনী প্রতিশ্রুতি প্রতিটি গ্রাম হবে শহর তা বাস্তবায়নে আমাদের এলাকায় সাবমার্জিবল পাকা সড়ক নিমার্ণ করে দিয়েছেন। আমারা জিবনে কল্পনাও করতে পারিনি এখানে কোনদনি রাস্তাঘাট ব্রীজ-কালভার্ট হবে। আমরা যানবাহনে যাতায়েত করতে পারবো।
বর্তমান সরকার আমাদের বিল জনপদের মানুষের কষ্ট লাঘবে এমন উদ্যোগ নেয়ায় আমরা খুবই খুশি। একই ভাবে এ উপজেলায় প্রতিটি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে নতুন নতুন রাস্তা ঘাট পাকা করণ করা হয়েছে। নদ-নদী খাল-বিলের উপর নিমর্তি হয়েছে অসংখ্যা ব্রীজ কালভার্ট। এতে মানুষের দীর্ঘদিনের দূর্দশা লাঘব হয়েছে। গ্রাম জনপদের মানুষের সহজ যাতাযেত নিশ্চিত হয়েছে। এমন সুষম উন্নয়নে খুশি বিল জনপদের হাজার হাজার মানুষ।
উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো.মাঈন উদ্দিন জানান,উল্লাপাড়া উপজেলার সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের সার্বিক সহযোগীতায় ও উদ্যোগে এ উপজেলায় ২০১৪ সাল থেকে অদ্যবধি ২০৮ কিঃমিঃ নতুন রাস্তা-ঘাট পাকা করণ করা হয়েছে। সংস্কার করা হয়েছে প্রায় ২ শথকিঃমিঃ সড়ক। ১৬টি বড় ব্রীজ কালভার্ট নিমার্ণ করা হয়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত এ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ২৫ কিঃমিঃ সাবমার্জিবল সড়ক পাকা করণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩শথ৫০ কোটি টাকা। নতুন করে আরো ৩০ কিঃমিঃ সাবমার্জিবল সড়ক ও অসংখ্যা গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট,ব্রীজ-কালভার্ট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রযেছে।
উল্লাপাড়া সড়ক ও জনপদ বিভাগ সুত্র জানায়, এ উপজেলার সোনতলায় করতোয়া নদীর উপর শতকোটি টাকা ব্যয়ে একটি বড় ব্রীজ ,উল্লাপাড়া রেলগেটে শতকোটি টাকা ব্যয়ে রেলওয়ে ওভার পাস নিমার্ণ শেষ পথে। একই সাথে এ বিভাগের মাধ্যমে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে উল্লাপাড়ার শ্যাামলীপাড়া থেকে পাঙ্গাসীর বাংলাপাড়া পর্যন্ত ১৩ কিঃ মিঃ সড়ক পাকা কর করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের বাংলাপাড়া থেকে উধুনিয়া বাজার পর্যন্ত ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ কিঃমিঃ নতুন সড়ক নিমার্ণ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এই সড়ক নিমার্ণ শেষ হলে উল্লাপাড়াÑ চাটমোহর উপজেলার সাথে যোগাযোগ সহজ হবে। এতে লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে।
২২ কোটি টাকা ব্যয়ে উল্লাপাড়া-বেলকুচি ১৮ কিঃমিঃ সড়ক সংস্কার শুরু হয়েছে। ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়ক সংস্কার করা হয়েছে। একই সড়কে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইলেন নিমার্ণ করা হয়েছে। উল্লাপাড়া বেলকুচি সড়কে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে বক্স কালভার্ট নিমার্ণ করা হয়েছে। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে উল্লাপাড়া-পূর্নিমাগাঁতী-তাড়াশ সক সংস্কার করা হয়েছে। হাটিকুমরুল থেকে বগুড়া নগরবাড়ি মহাসড়কের বালসাবাড়ি পয়ন্ত ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে মহাসড়ক মেরামত করা হয়েছে।
উল্লাপাড়া-সলঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য তানভীর ইমাম জানান,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিবার্চনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এ উপজেলায় পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি রাস্তা-ঘাট-ঘাট,ব্রীজ-কালভার্ট নিমার্ণ করা হয়েছে। চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলার বন্যা কবলিত কয়েকটি ইউনিয়ন ছিল একেবারে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। সেসব এলকায় আধুনিক মানের পাকা সাবমার্জিবল সড়ক ও ব্রীজ নিমার্ণ করা হয়েছে। সড়ক বিভাগের মাধ্যমেও একাধিক বড় বড় সড়ক ও ব্রীজ কালভার্ট নিমার্ণ করা হয়েছে।
এতে প্রত্যন্ত ঘোর পল্লী থেকেও মানুষে যে কোন সময় যানবাহনে চড়ে চলাচল সহ নির্বিগ্নে মালামাল পরিবহন করতে পারছে। গ্রামের ছেলে মেয়েরা শহরের স্কুল কলেজে পড়াশুনা করতে পারছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারযাত করে বাড়তি আয় করতে পারছে। গ্রামেই মিলছে শহরের সুবিধা। যোগযোগ খাতে উন্নয়নের কারনে এ উপজেলার মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। বাকী রাস্তাÑঘাট গুলোর নিমার্ণ শেষ হলে এ উপজেলা হবে দেশের যোগাযোগ সমৃদ্ব মডেল উপজেলা। সে লক্ষেই কাজ কওে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল