হোম » সারাদেশ » একজন ছিঁচকে থেকে পেশাদার চোরের গল্প

একজন ছিঁচকে থেকে পেশাদার চোরের গল্প

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ নিজ এলাকায় চুরির ঘটনায় যুক্ত থাকলেও অনেকটা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতেন। কোথাও চুরি করা শেষ হলে যাতে সন্দেহের বাইরে থাকেন সে কারণে কয়েক মাসের জন্য লাপাত্তা হয়ে যেতেন। এমন কি পাশের এলাকায় চুরি করার অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তার। অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার মশিউর রহমান।
এলাকার মানুষের কাছে আতঙ্ক মশিউরের বিরুদ্ধে একাধিক চুরিসহ নানা অপকর্ম নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন এলাকার লোকজন। দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ চুরি চক্রের সঙ্গে যুক্ত মশিউরের বিরুদ্ধে এতদিন গরু, সিঁদ কেটে ঘর চুরির মতো অভিযোগ ছিল। কিন্তু এবার নিজ উপজেলায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লেন এই অপকর্মকারী। মশিউর রহমান আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের গড়ানিয়া গ্রামের মৃত ছাত্তার শেখের ছেলে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মশিউর সংঘবদ্ধ একদল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে নসিমন, ভ্যান, গরু, সিঁদ কেটে ঘর চুরি, দোকান চুরিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এমনকি হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহেও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল মশিউর। এছাড়াও এলাকায় কোন চুরির ঘটনা সংগঠিত হলে ৩-৪ মাসের মধ্যে মশিউরের কোন খোঁজ পাওয়া যায় না। একদম লাপাত্তা হয়ে যায় সে।
বিভিন্ন চুরির সঙ্গে মশিউরের যুক্ত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজ ইসলাম খোকন। তিনি বলেন, ‘মশিউর একজন পেশাদার চোর। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কিছু চুরি করার অপরাধে এলাকায় একাধিকবার সালিশ হয়েছে। সবশেষ আমাদের ইউনিয়নের এক বাড়িতে চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।’
গত ৯ নভেম্বর উপজেলার গড়ানিয়া গ্রামে তানভীর আহমেদ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চুরি শেষে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।এরপর তানভীর রহমান তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেন। বর্তমান সে কারাগারে রয়েছেন।
গড়ানিয়া গ্রামের কামাল শেখের ছেলে ইমদাদুল শেখ তাদের বাড়িতে চুরি হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বরে আমাদের ঘরে সিঁদ কেটে ঘরে প্রবেশ করে মোবাইল, নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আমি তাকে ধরে ফেলি; তখন সে সুকৌশলে তার গায়ে থাকা শীতের পোশাক, স্যান্ডেল ও চুরির কাজে ব্যবহৃত শাবল ফেলে পালিয়ে যায়।’
এলাকার মৃত. পাঁচু শেখের ছেলে রুহুল আমিন নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘তার ভ্যানগাড়িটিও মশিউর চুরি করেছিলো। পরবর্তীতে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মিমাংসা করে কিছু ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি আর নেননি। একই এলাকার মান্নান শেখ নামে আরও এক ব্যক্তি বলেন, ‘জীবন চালানোর জন্য ধারদেনা করে একটি নছিমন কিনে ছিলাম। কিন্তু গতবছর মশিউর আমার নছিমনটা চুরি করে নিয়ে যায়। তারপর আর নছিমন কেনা হয়নি। এখন আমি রাজমিস্ত্রীর কাজ করে সংসার পরিচালনা করি।’
বানা ইউনিয়নের হালিম শেখ নামে এক ব্যক্তি জানান, ‘বছর দুই আগে গরানিয়া গ্রামের জলিল শেখের স্ত্রীর মরদেহ একই এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। তারপর সেই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার হয়েছিলো মশিউর।’
সবশেষ, গত দুই নভেম্বর পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার ছত্রকান্দা গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে বোয়ালমারী থানায় মশিউরের নামে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত দাউদ মোল্যা নামে এক ব্যক্তি। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ‘একটি চুরি মামলায় মশিউরকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মের কথা শুনেছি।’
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!