
হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তৌফিকুল আরিফ বলেছেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার সম্ভব সবকিছু করছে। এই খাতের উন্নয়নে আরও কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সোমবার দিনব্যাপী রংপুর নগরীর আডিআরএস অডিটোরিয়ামে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে খামারিদের নিয়ে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণ” বিষয়ে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)” এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে দিনব্যাপী রংপুর বিভাগীয় এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় অতিরিক্ত সচিব আরোও বলেন, খামারিদের নিয়ে গ্রুপ গঠন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক ও যন্ত্রপাতি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে যাতে দেশজ প্রাণিসম্পদের উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।
প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রডিউসার গ্রুপের ম্যাপিং, বেইসলাইন সার্ভে, প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের রিস্ক এ্যাসেসমেন্ট ও ম্যানেজমেন্ট কৌশল নির্ধারণ, ভ্যালু-চেইন ভিত্তিক খামারি গ্রুপ গঠণ ও সংহতকরণ, কৃষক মাঠ স্কুলের পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ ম্যানুয়াল তৈরি এবং বিভিন্ন পলিসি ও পোল্ট্রি হ্যাচারি আইন প্রণয়নে এফএও এলডিডিপিকে প্রযুক্তিগত সেবা প্রদান করছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের পরিচালক ডা. মো: ইসমাইল হকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব জনাব মো: আব্দুর রহিম। এতে প্রাণিসম্পদ খাতের রংপুর বিভাগের মোট প্রায় ১০০ জন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা যোগ দেন।
এছাড়া ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এলডিডিপি’র প্রায় ৬০ জন প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তাও কর্মশালায় যুক্ত হন। প্রকল্পের কার্যক্রম, এফএও প্রদত্ত প্রযুক্তিগত সেবার অগ্রগতি এবং খামারিদের নিয়ে প্রডিউসার গ্রুপ গঠন ও সংহতকরণ বিষয়ে উক্ত কর্মশালায় প্রেজেন্টশন উপস্থাপন করেন এলডিডিপির চীফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর ড. মো: গোলাম রাব্বানী, এফএও-এর টিম লিডার ড. জুলিয়াস মুচিমি এবং ন্যালনাল কনসালটেন্ট ড. খান শহিদুল হক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এফএও-এর ন্যাশনাল এ্যানিমেল হেলথ এক্সপার্ট ড. এ.কে.এম মোস্তফা আনোয়ার। কর্মশালাটির মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতের প্রান্তিক খামারিদের কিভাবে ভেল্যু-চেইন ভিত্তিক প্রডিউসার গ্রুপে যুক্ত করে তাদের জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা যায়, বাজারজাতকরণ, ঋণ প্রদান ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন ইত্যাদি বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায় এবং তারা যাতে উন্নত জাতের গাভী পালন,
গরু মোটাতাজাকরণ, ছাগল ও ভেড়া এবং দেশি মুরগী পালনের মতো খাতে বিনোয়োগে আগ্রহী হন সে বিষয়ে আলোচনা হয়। কর্মশালায় বিশেষজ্ঞগণ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামনে মাঠ পর্যায়ে প্রডিউসার গ্রুপ গঠনসহ এর ম্যাপিং, বৈশিষ্ট্য সনাক্তকরণ ও সংহতকরণের প্রক্রিয়া খামারিদের অংশগ্রহণ, গঠন প্রক্রিয়া, পরিচালনা পদ্ধতি, প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, বাজারজাতকরণ, যুবক ও নারীর অংশগ্রহণ ও ব্যবসা সম্প্রসারণ সম্বন্ধে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক