
রবিউল হাসান লায়ন: জামালপুর সদরের ৪নং তুলশীরচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩টি কেন্দ্রে চেয়ারম্যান পদের ফলাফল পুরোপুরি পরিবর্তনের প্রতিবাদে ও পুননির্বাচনের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী। শুক্রবার দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মোমিনুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে এই স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মমিন লিখিত অভিযোগে বলেন- আমার নির্বাচনী এলাকায় জালিয়াতির মাধ্যমে ৩টি কেন্দ্রের চেয়ারম্যান পদের ফলাফল পুরোপুরি পরিবর্তন করে ফেলেছে। কারচুপি, জালিয়াতি, কেন্দ্র দখলসহ ফলাফল পাল্টে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চাপে প্রিসাইডিং অফিসারগণ মধ্য গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
পশ্চিম টেবিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পুর্ব টেবিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটের ফলাফল সিট আমাদের না দিয়েই চলে আসে। পরবর্তীতে ওই ৩টি কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসারগণ, আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শহীদুল্লাহ্ ও তার কর্মী-সমর্থকরা ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করে উপজেলা নির্বাচনী কন্ট্রোল রুমে জমা দেন। সেই অনুযায়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. শহীদুল্লাহ্কে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
মমিন বলেন- গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩২৭ জন। এখানে নৌকা প্রতীক ভোট দেখানো হয়েছে ২২১৫টি আর আমার আনরস প্রতীককে দেখিয়েছে ৪ ভোট। পশ্চিম টেবিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮৩৯ জন। এখানে নৌকা প্রতীকে ভোট দেখানো হয়েছে ২৭৯৯টি আর আমার আনরস প্রতীককে ভোট শুন্য দেখানো হয়েছে। পুর্ব টেবিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২১৬২ জন।
এখানে নৌকা প্রতীকে ভোট দেখানো হয়েছে ২০৫৮টি আর আমার আনরস প্রতীকের ভোট ৮৩টি দেখানো হয়েছে। যারা ভোট দিয়েছেন, ভাটি গজারিয়ার সেকান্দর আলীর ছেলে আব্দুল বারেক, মো. হোসেন আলীর ছেলে মো. রমেশ, জবেদ সরকারের ছেলে শামসুল হক, তালেব সরকারের ছেলে সুরুজ্জামান ও অসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল গফুরসহ অর্ধশত মৃত ব্যক্তি। এছাড়াও কুদ্দুস আলীর ছেলে আবু সাঈদ, আজিবর রহমানের ছেলে আনোয়ার হোসেন, মোখলেছুর রহমানের ছেলে মোশাররফ হোসেন, মৃত আয়নাল হকের ছেলে শামসুল হক ও লাল মামুদের ছেলে খোকন দেশের বাইরে থেকে বিমানে এসে ভোট দিয়ে আবার চলে গেছে বলে ভোটার তালিকায় দেখানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন- নির্বাচনের দিন ১১নভেম্বর সন্ধ্যায় পুর্ব টেবিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে নৌকার প্রতীকের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা জোরপূর্বক সিল মারতে শুরু করলে সাধারণ ভোটারদের সাথে সংঘর্ষ হয়। পরে ওই কেন্দ্র মাঠেই নৌকা প্রতীকে সীলযুক্ত ৪৪টি ব্যালট পেপার (মুরিবই) পাওয়া যায়। এতেই আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায় কারচুপি, ভোট ডাকাতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে আমার বিজয়ী ফলাফলকে পরাজিত দেখানো হয়েছে।
আমি আপনাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কেন্দ্র ৩টিতে পুনরায় নির্বাচন দেয়ার দাবী জানাচ্ছি। এসময় জামালপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমানসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি