হোম » সারাদেশ » বদরগঞ্জে স্ত্রীর যৌতুক মামলায় রক্ষা পেতে বিষপানে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

বদরগঞ্জে স্ত্রীর যৌতুক মামলায় রক্ষা পেতে বিষপানে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা

হারুন উর রশিদ সোহেল,রংপুর: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলা থেকে রক্ষা পেতে স্বামী সেরাজুল ইসলাম (২৫) বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও তাকে পর্যবেক্ষনে রাখা বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সেরাজুল বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাড়পাড়ার আবু বক্করের ছেলে। বুধবার দুপুরে বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি।

উপজেলা পরিষদ চত্বরে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্য রজনী কান্ত বলেন- মহিলা বিষয়ক অফিসারের কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে হঠাৎ লোকজনের চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে দেখি একজন বিষ পান করেছে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর জানতে পারি তার সাথে স্ত্রীর মামলা চলছে।

মামলা সুত্রে জানা যায়- ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর পারিবারিকভাবে সেরাজুলের বিয়ে হয় একই উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ছোট হাজীপুর খুটুপাড়ার আনিছুল ইসলামের মেয়ে আদুরী বেগমের(২১) সাথে। বিয়ের পর থেকে দু’লাখ টাকা যৌতুকের দাবীতে তাকে শারীরীক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল স্বামীর পরিবার। তারপরও তিনি ঘরসংসার করেছেন স্বামী সেরাজুলের সাথে। ফলে তাদের ঘরে একটি সন্তানও জন্ম নিয়েছে। এরপরও স্বামীর পরিবারের যৌতুক দাবী তাকে অতিষ্ঠ করে তোলে।

একারণে তিনি প্রথমে বদরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। কিন্তু থানা পুলিশ কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। সে অনুযায়ী আদুরী বেগম চলতি বছরের ২৮ জুন রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্বামী ও ননদসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আদালত শুনানি শেষে মামলাটি তদন্তের জন্য উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এরই মধ্যে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম শেষ করেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেননি। সেরাজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, তার আশঙ্কা- তদন্ত প্রতিবেদন তার বিপক্ষে চলে যাবে এবং তিনি আজীবনের জন্য স্ত্রী আদুরীকে হারাবেন। এমন আশঙ্কা থেকেই তিনি বুধবার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সংলগ্ন স্থানে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। চিকিৎসক সানোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত হলেও তাকে পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। এদিকে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাড়পাড়া এলাকা ঘুরে সেরাজুল সম্পর্কে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার আনজুয়ারা বেগম বলেন,

সেরাজুলের সম্পদ বলতে ছিল বাড়িভিটার মাত্র ৬ শতক জমি। সেটিও সে বিক্রি করেছে। তাছাড়া তার বউয়ের বয়স খুবই কম এবং দেখতেও সুন্দর। মেয়েটি থাকার জায়গা না পেয়ে বাপের বাড়িতে অবস্থান করছে। অপরদিকে ছুটিতে থাকায় মহিলা বিষয়ক অফিসারকে পাওয়া না গেলেও মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সেরাজুল মূলতঃ বিয়ে পাগল এক যুবক। আদুরীকে বিয়ের আগে সে তিন বিয়ে করেছে। এছাড়া বিয়ের পর আরেকটি বিয়ে করেছে। এ অবস্থায় কোন মেয়েই চাইবেনা তার সাথে সংসার করতে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!