হোম » সারাদেশ » তারাগঞ্জে নতুন ভবন নির্মাণের আগে পুরাতন ভবনগুলো নিলাম, শ্রেণিকক্ষ সংকটে ৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়

তারাগঞ্জে নতুন ভবন নির্মাণের আগে পুরাতন ভবনগুলো নিলাম, শ্রেণিকক্ষ সংকটে ৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়

রংপুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিকের পাঁচটি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সম্প্রতি পুরাতন ভবনগুলো সময়ে নিলাম করা হয়েছে। এদিকে, নতুন ভবন নির্মাণের আগে ভবনগুলো নিলাম হওয়ায় শ্রেণিকক্ষ সংকটে পড়েছে প্রায় সাড়ে ১২শ ক্ষুদে শিক্ষার্থীর পাঠদান। এনিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রæত সময়ের মধ্যে শ্রেণী কক্ষ সংকটের সমাধান দাবি করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনায় প্রায় দেড় বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার পর শিক্ষার্থীরা উৎসাহ নিয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছেন।

কিন্তু গত ২৬ আগস্ট রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ডাংগীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনসেড ঘর, ইকরচালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন কক্ষ বিশিষ্ট ভবন, কাঁচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন কক্ষ বিশিষ্ট ভবন, বাছুরবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনসেড ঘর ও ধোলাইঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন কক্ষ বিশিষ্ট ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিলাম করা হয়। ভবনগুলো নিলাম হওয়ায় বর্তমানে ভবনগুলো ভেঙে ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে,

শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নিতে ডাংগীরহাটে ৫৬৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৫টি শ্রেণি কক্ষ, ইকরচালিতে ২৬১জন শিক্ষার্থীর জন্য ২টি কক্ষ, কাঁচনাতে ৩২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২টি কক্ষ, বাছুরবান্ধায় ২৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২টি কক্ষ এবং ধোলাইঘাটে ১৬২ জন শিক্ষার্থীর জন্য ২টি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। সরেজমিনে ডাংগীরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দুইটি কক্ষে পাঠদান দিচ্ছেন শিক্ষকেরা। ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাজিরা খাতা অনুয়ায়ী ১০২ জন। এর মধ্যে ৭৬জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিতি রয়েছে।এব্যাপারে ডাংগীরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুদ্দিন জানান, করোনার মহামারিতে দেড় বছর পর স্কুল চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার আগ্রহ বেড়েছে। যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে।

বর্তমানে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে ডাংগীরহাট স্কুল এন্ড কলেজ দুইটি কক্ষ ধার নিয়েছি। তবে সমস্যায় আছি এখন না হয় চলছে আবার যখন সরকারিভাবে প্রতিদিন প্লে থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নেয়ার নির্দেশ আসবে তখন খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে বিপাকে পরতে হবে বলে জানান তিনি। একই উপজেলার কাঁচনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলালী বেগমের সাথে হলে তিনি বলেন, বর্তমানে ৩২৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র দুইটি কক্ষে পর্যায়ক্রমে ক্লাস নিতে হচ্ছে। করোনার মহামারিতে স্কুল বন্ধের সময় ভবন নির্মাণ করা হতো তাহলে শ্রেণী কক্ষের সংকটে পড়তে হতো না। কবে যে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে আল্লায় জানে।

এদিকে ইকরচালি, বাছুরবান্ধা ও ধোলাইঘাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন এমন কথা জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিভাবদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ক্লাসরুম ভাংগি ফেলার আগে নতুন রুম তুলির নাগিল হায়। এখন রুম যে ভাংগি ফেলাইল চওয়া-ছোটোর ঘর কোনটে বসি পড়া পড়িবে। তারাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বর্তমানে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস চলছে তাই সমস্যা তেমন একটা হচ্ছে না মনে হয় এমন মন্তব্য করেন তিনি।###

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!