হোম » সারাদেশ » শিক্ষা বিমুখ মানুষকে আলো দিচ্ছে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার

শিক্ষা বিমুখ মানুষকে আলো দিচ্ছে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার

শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহান, টাঙ্গাইলঃ কেউ সপ্ন দেখে আবার কেউ বা সপ্ন দেখায়।প্রতন্ত অঞ্চলে শিক্ষার মুখ দেখা নিতান্তই দূরহ।কিন্ত নাছর বান্দা।হাল ছাড়েনি।সপ্ন দেখেছে আলো ছড়াবে,জ্ঞানের আলো।তাইতো দীর্ঘ সময় পারি দিয়ে প্রতিক্ষার সাথে মানিয়ে নিয়েছে প্রতিকূল অবস্থাতেও তবুও পিছু হটে নি।কারণ সপ্ন দেখেছে যে মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিবে।তাইতো প্রতন্ত অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও হাল ছেড়ে দেন নি।
হ্যা! বলছিলাম এমনই এক অদম্য সপ্নদ্রষ্টার কথা যিনি শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় সপ্ন দেখেছিলেন পাঠাগার তৈরি করার।আজ তার সপ্নের পাঠাগার তৈরির দূরহ চিন্তা যেন বাস্তবে রুপ নিয়েছে। গ্রামের পিছিয়ে পড়া শিক্ষা বিমুখ মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রকৃত জ্ঞানে আলোকিত হয়ে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য”এসো বই পড়ি,নিজেকে আলোকিত করি”প্রতিপাদ্য কে নিজের মধ্যে ধারণ করে পাঠাগার গড়ার লক্ষ্যে  নিজ বাড়ির একটি কক্ষেই ২০১০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে এসআই কামরুজ্জামান সোহাগ। মেধা এবং আদর্শ চিন্তাশক্তির মাধ্যমে তিল তিল করে গড়ে তোলা পাঠাগারটি এখন গ্রামের সকলের কাছেই বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার হিসেবেই  পরিচিত।
পাঠাগারটি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়ন এর চররাকররা গ্রামে অবস্থিত।শিক্ষার্থী অবস্থায় যাত্রা শুরুর পর থেকেই দীর্ঘ প্রায় ৯ বছরের নিবিড় পরিচর্যায় কার্যক্রম চলছিলো পাঠাগারটির।অতপর ২০১৯ সাল থেকে কিছুটা বড় পরিসরে সকলের কাছে গ্রামের মধ্যে শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হতে থাকে পাঠাগারটি। আজ তারই হাতে গড়া পাঠাগারের মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে গ্রামের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী।শুধু তাই নয় গ্রামের বয়স্ক সহ বিভিন্ন বয়সের শিক্ষানুরাগীরাও জ্ঞান অর্জনে সহায়তা পাচ্ছে পাঠাগারটির মাধ্যমে।
শুধু মাত্র জ্ঞান অর্জনই নয় পাঠাগারটির মাধ্যমে বিনোদনের আয়োজনও করা হয়ে থাকে।প্রতি বছর প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ জ্ঞানের প্রতিযোগিতা, বৃত্তি প্রদান, কবিতা আবৃতি, গান এবং কোরআন-এর হাফেজদের নিয়ে আল-কোরআন পাঠসহ বিভিন্ন আলোচনা সভা করা হয়ে থাকে যা একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মেধা বিকাশে নানা বিষয় পরিস্ফুটিত হয়ে থাকে।
পাঠাগারের সদস্য সরকারি সা’দত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র আমিনুল ইসলাম জানান, আশপাশে কোনো পাঠাগার না থাকায় বই পড়তে হলে আমাদের ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জেলা সরকারি গ্রন্থাগারে যেতে হতো, যা অনেক সাধ্যও ছিল। চৌধুরীমালঞ্চ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, পাঠাগারটি সাধারণ মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ে শিক্ষার্থীরা জাসমৃদ্ধ করছে, যা তাদের ভবিষাতে আলোকিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই পাঠাগারটির উন্নয়নে সমাজের শিক্ষানুরাগী ও বিত্তবানদের সাহায্যের বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর কামরুজ্জামান সোহাগ বলেন, অনেকে বই পড়তে ভালোবাসেন। তবে বই কিনে পড়ার সামর্থ নেই। তাদের জন্য সহজে বই পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।  পাঠাগারটির সমৃদ্ধি করণে  টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম আশ্বস্ত করে বলেন,পাঠাগারের অবকাঠামো, বই পত্রাদিসহ যাবতীয় বিষয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে সর্বাত্তক সহযোগিতা করা হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!