হোম » প্রধান সংবাদ » ভৈরবে নাপিতের টাকা বিতরণে অনিয়ম

ভৈরবে নাপিতের টাকা বিতরণে অনিয়ম

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ  বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝেও অনুদান প্রদান করে আসছেন। সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেমন শীল, মুচি ও কামার ইত্যাদি পেশার লোকজনকে উন্নত জীবন যাপনের লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছরের ন্যায় এবারও অনুদান প্রদান করেছে। কিন্তু কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির নাপিত বা শীল সম্প্রদায়ের জীবন মান উন্নয়নের জন্য সরকারের দেয়া জনপ্রতি ১৮ হাজার করে টাকা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সমাজ সেবা অফিসের মাঠ কর্মীদের তৎপরতার অভাবে নাপিত ও মুচি সম্প্রদায়ের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা পেয়েছে জেলে, রাজ মিস্ত্রী, কাঠমিস্ত্রী কেউবা আবার বাদাম বিক্রেতা। তালিকায় প্রবাসীও নামে খোজে পাওয়া গেছে। অথচ অসহায় প্রকৃত নাপিতের নাম তালিকায় বাদ পড়েছে অনেক। ফলে তালিকা তৈরি নিয়ে দেখা দিয়েছে অসন্তুোষ। এমন ঘটনায় জনপ্রতিনিধিসহ অফিসের লোকজনের প্রতি ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

খোজঁ নিয়ে জানাগেছে, উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের নাপিতের তালিকায় নুরুল ইসলাম নামে এক সাবেক ইউপি সদস্য এবং তার ছেলেসহ একই দোকানের ৫ জন  নাপিত অনুদানের টাকা পেয়েছে। তালিকাভুক্ত নুরুল ইসলামের ছেলে নাপিত হলেও তিনি পেশায় একজন ফল বিক্রেতা। এবিষয়ে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাপ সারোয়ার বলেন, আমি এই তালিকা সম্পর্কে কিছুই জানি না। এই তালিকা থেকে গজারিয়া ইউনিয়নের বৃহত্তর মানিক এলাকার লোক জনের নাম বাদ পড়েছে।  অথচ, ছেলে নাপিতের কাজ

শিমুলকান্দি ইউনিয়নের আরেক নারী ইউপি সদ্যেস্যের ছেলে এবং তার মেয়ের জামাতার নাম রয়েছে যারা সেলুনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত নয় বলে জানা যায়।  তুলাকান্দি গ্রামের মোহাম্মদ আলী নামে এক সেলুন মালিক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে আমি ৯ বছর ধরে এই ভাঙ্গা ঘরে ফাটা গ্লাসের সামনে কাজ করছি কোন রকমে। আমি এপর্যন্ত কোন প্রকার সহযোগিতা বা অনুদান পায়নি। কিন্তু সুসজ্জিত সেলুন মালিকরা ঠিকই অনুদান পেয়েছে।

খোজ নিয়ে আরও জানাযায় শিমুলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা  দিদার এর বিরুদ্ধে নাপিতদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেলেও তিনি মুঠোফোনে এসব অভিযোগের কথা মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। একই ইউনিয়নের রাজ নগরের সেলুন মালিকদের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠে ইউনুছ মেম্বারের  বিরুদ্ধে। তিনিও মুঠোফোনে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এবিষয়ে শিমুলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান যোবায়ের আলম দানিছ বলেন আমি বিষয়গুলো তদন্ত করব। তদন্তে সত্যতা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  অনুসন্ধানে গিয়ে আগানগর ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর মেম্বার তার ছেলের মাধ্যমে ৫ জন  নাপিতের নিকট থেকে ৩ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে তিনি মুঠোফোনে জানান আমি অসুস্থ। আমি বিছানায় পড়া। আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।এগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট। আগানগরের মুছা মেম্বারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু মুঠোফোনে কল দিলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সামজ সেবা কর্মকর্তা রিফফাত জাহান ত্রপা জানান, তালিকা তৈরিতে অনিয়ম এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠির এসব টাকা বিতরণে কোন অনিয়ম হলে কিংবা অফিসের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এবিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, এই সব বিষয়ে যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!