
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ১০নং সয়দাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ মন্ডলের বিরুদ্ধে ৯০টি ভূমিহীন পরিবারের কাছ থেকে জমি দেওয়ার নামে ৫হাজার করে ৪লক্ষ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের ভূমিহীদের সরকারি জমি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫ হাজার টাকা করে ৯০ পরিবারের কাছ থেকে ৪লক্ষ ৫০হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ঐ আওয়ামীলীগ নেতা। ঘটনাটি দির্ঘদিনের হলেও এতোদিনে মূখ খুলতে শুরু করেছে ভুক্তভূগীরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বেশ কয়েকটি পরিবার লিখিত অভিযোগ করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবাররা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের সয়দাবাদ ইউনিয়ন খাস বড়শিমুল, বড়শিমুল পঞ্চসোনা, হাটসারটিয়া, সয়দাবাদ, পূর্ণবাসন, গাছাবাড়ী, পঞ্চসোনা,
মৌজার সরকারি জমি পাইয়ে দেওয়ার নামে ৯০টি ভূমিহীন পরিবারের প্রতি পরিবারের কাছ থেকে ৫হাজার করে টাকা উত্তোলন করেছে। ২০১১ সালে সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৯নং ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন আব্দুল আজিজ মন্ডল। তার এলাকর দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি নিজ ইউনিয়নের খাস বড়শিমুল, বড়শিমুল পঞ্চসোনা, পূর্ণবাসন, পঞ্চসোনা, মৌজায় সরকারি ভাবে সেখানে ভূমিহীনদের বসবাস করার জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই জমি ভূমিহীনদের দেওয়ার কথা বলে টাকা উত্তোলন করেন আজিজ মন্ডল।
হাটসারটিয়া গ্রামের মৃত সিদ্দিক সরকারের ছেলে মো: জহুরুল ইসলাম, খাসবড়শিমুল গ্রামের মৃত আব্দুল ছাত্তারের মেয়ে খোস বাহার, মৃত্য বছির উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মো: জালাল ভূইয়া, মো: জালাল ভূইয়ার ছেলে মো: হুমায়ুন ইসলামসহ মোট ৯০ জনের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। সরকারি ভূমি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ভূমিহীন পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি। ভূমিহীনদের জমি যারা প্রাপ্য তারাই পাবে কিন্তু এ ইউনিয়নে হয়েছে উল্টো অধিক অংশ জমি পেয়েছে যাদের জমি দরকার নেই তারাই পেয়েছে ও এদের মধ্যে আজিজ মন্ডলের আত্বীয় -স্বজন রয়েছে।
আজিজ মন্ডলের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে অভিযোগপত্রে। ভুক্তভোগী লিটন ভূইয়া, জালাল ভূইয়া, কোরবান আলী আকন্দ বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মন্ডল আমাদের সরকারি ভূমি দেওয়ার নামে তার লোকজন দিয়ে ৫হাজার করে টাকা উত্তোলন করিয়েছে। আমরা ধারদেনা করে জমি পাওয়ার আশায় তাকে টাকা দিয়েছি। এদিকে খাস জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ক্ষেত্রেও অব্যবস্থাপনা। প্রকৃত ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিধান থাকলেও বাস্তবে কমসংখ্যক ভূমিহীনই সরকারের এ সুবিধা ভোগ করছেন।
যাদের খাস জমি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই তারাই খাস জমি পেয়েছে। কৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী, শুধু ভূমিহীন পরিবার খাস জমি বরাদ্দ পাবে। প্রতি একর বা তার অংশের জন্য ১ টাকা প্রতীকী মূল্যে ৯৯ বছরের জন্য এসব জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। ৯৯ বছরের আগে তা কোনোভাবেই বিক্রি বা হস্তান্তরযোগ্য নয়। নীতিমালায় আরও উলেখ রয়েছে, ভূমিহীন পরিবার বলতে কৃষির ওপর নির্ভরশীল কৃষি জমিহীন পরিবারকে বোঝাবে।
এ ছাড়া বসতভিটাহীন, দুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও নদী ভাঙনকবলিত পরিবারও ভূমিহীন পরিবার হিসেবে এসব জমি পাওয়ার অধিকারী হবে। তবে বরাদ্দ প্রাপ্ত ব্যক্তি ভূমিহীন নয় প্রমাণিত হলে বন্দোবস্ত বাতিল করা হবে। অথচ বাস্তবে তা প্রতিপালন হচ্ছে না। প্রভাবশালীরাই অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভূমিহীন সেজে নিজেদের নামে এসব খাস জমি বন্দোবস্ত নিচ্ছেন।
ভূমিহীন নয় যাদের বাব-দাদা কয়েক বিঘা করে জমি রেখেগেছেন এমন কিছু তালিকা তুলে ধরা হলো- সয়দাবাদ ইউনিয়নের খাসবড়শিমুল গ্রামের মৃত বছির উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে মো: জালাল ভূইয়া ভূমিহীন সেজে বড়শিমুল পঞ্চসোনা মৌজার খতিয়া নং-১, দাগনং-৭৭৬ জমি পেয়েছে সাড়ে ছয় শতক ও মো: জালাল ভূইয়ার স্ত্রী রেনুকা বেগম বড়শিমুল পঞ্চসোনা মৌজার খতিয়া নং-১, দাগনং-৮০৮ জমি পেয়েছে সাড়ে চার শতক কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তারা ভূমিহীদের তালিকায় পরেনা।
মৃত আবুল কাশেম ভূইয়ার ছেলে মো: লিটন ভূইয়া তার খতিয়ান নং-৩১, দাগ নং-৭৭৬, জমির পরিমান- সাড়ে ছয় শতক তার স্ত্রী সবুরা ভূইয়া খতিয়ান নং- ৮০৮, জমির পরিমান- সাড়ে চার শতক। আনছার আলীর ছেলে আব্দুল আলিম খতিয়ান নং-০১, দাগ নং-৭৫৫, জমির পরিমান- পনের শতক। হাতেম মোলার ছেলে মো: বছির মোল্লা তার খতিয়ান নং-১, দাগ নং-৫৫০, জমির পরিমান- পাঁচ শতক। মৃত আবুল কাশেম ভূইয়ার ছেলে মো: রিপন ভূইয়া তার খতিয়ান নং-১, দাগ নং-১১৮০, জমির পরিমান- চার শতক তার স্ত্রী নাজমা খাতুন খতিয়ান নং- ৭১৪, জমির পরিমান-সাড়ে নয় শতক। অসমান গণির ছেলে মো: রুস্তম আলী খতিয়ান নং-১,
দাগ নং- ২৯৬, জমির পরিমান- চৌদ্দ শতক। মৃত হাতেম মন্ডলের ছেলে মো: মতি মন্ডল খতিয়ান নং-১, দাগ নং-৭২, জমির পরিমান- সাত শতক। মৃত জেলাল মন্ডলের ছেলে মো: এশারত মন্ডল খতিয়ান নং-১, দাগ নং-৭১, জমির পরিমান- পাঁচ শতক তার স্ত্রী হাজেরা খাতুন খতিয়ান নং-১, দাগ নং-৭২ জমির পরিমান-পনের শতক। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ মন্ডল বলেন, ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে ভূমিহীনদের জমি দেওয়া হয়েছে কিন্তু ‘ভূমিহীনদের ভূমি দেওয়ার ব্যাপারে তাদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি।
চেয়ারম্যান স্বাক্ষর করার পরে মেম্বাররা স্বাক্ষর করে। এবিষয়ে তিনি আরো বলেন, আমি সয়দাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি সেই সুযোগ নিয়ে একটি মহল এমন অভিযোগ করছেন। সে সময়কার চেয়ারম্যান সপ্তিক আহমেদ মিঠুর কাছে জানতে পারেন। এ ব্যাপারে ১০নং সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নবীদুল ইসলাম বলেন, এবিষটি আমি চেয়ারম্যান হওয়ার আগের, বিষয়টি আমার জানানেই।

আরও পড়ুন
কর্মসংস্থানের শর্তে মুচলেকা: সোনারগাঁয়ে মাদক ব্যবসা ছাড়লেন আরও এক ব্যবসায়ী
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২