হোম » প্রধান সংবাদ » ধর্ষনের মূলত ব্যাখ্যা কি ?

ধর্ষনের মূলত ব্যাখ্যা কি ?

মিজানুর রহমানঃ   ধর্ষন প্রতিরোধে সারা দেশে আন্দোলন চলছে। ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবী করা হচ্ছে। ধর্ষক যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে যেতে না পারে সেই দাবীও উঠছে। আজকের মানববন্ধন কর্মসুচীতে দেখলাম, এক বোন মানববন্ধনে দাঁড়িয়ে ধর্ষনের প্রতিবাদ করছে। ধর্ষক মুক্ত দেশ তৈরীর শপথ নিচ্ছে। কিন্তু ওই বোনের বড় ভাই একজন ধর্ষক। নিজের পরিবারে ধর্ষক রেখে কি দেশকে ধর্ষক মুক্ত করা সম্ভব ? আমরা যারা দেশকে ধর্ষক মুক্ত চাচ্ছি আমাদের আগে নিজের পরিবারকে ধর্ষক মুক্ত করতে হবে। আমরা যদি আমাদের পরিবারকে ধর্ষক মুক্ত করি তবেই দেশ ধর্ষক মুক্ত করা সম্ভব।
আসলে কি শুধু আইনের মাধ্যমে ধর্ষনের মত ঘটনা সমাজ থেকে নির্মূল করা সম্ভব ? যে ঘটনাটি প্রকাশ পাবে বা ধর্ষনের শিকার পরিবার আইনের আশ্রয় নিবে সেই পরিবার মনে করেন বিচার পাইলো। কিন্তু যে ধর্ষণের ঘটনাটি সম্মানের ভয়ে ধর্ষনের শিকার পরিবার নিজেই প্রকাশ করলো না সেই ঘটনাটার বিচারের কি হবে ?
ধর্ষন কি ? এক কথায় জোর পূর্বক দৈহিক মেলামেশাকেই আমরা ধর্ষণ বলি। তাহলে দুইজনের ইচ্ছায় দৈহিক মেলামেশা কি ধর্ষন ? দুই জনের ইচ্ছায় দৈহিক মেলামেশাকে আমরা কি বলবো ? অব্যশ ইসলাম দুই জনের ইচ্ছায় দৈহিক মেলামেশাকে জেনা বলেছেন। বাংলাদেশীয় আইনী ব্যবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য নারী-পরুষের স্ব-ইচ্ছায় দৈহিক মেলা মেশাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যাকে আমরা অনৈতিক কর্মকান্ড বলি। এখানে এ দেশীয় আইনে নারী-পুরষ দুইজনেই অপরাধী। জেনা বা অনৈতিক কর্মকান্ড ও ধর্ষন কি একই ধরণের অপরাধ ?
সাংবাদিকতা করতে গিয়ে দেখি, ধর্ষণের মামলার এজাহারে উল্লেখ্য করা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাসের পর মাস বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে দৈহিক মেলামেশা হয়েছে। যাকে আমরা অনৈতিক কর্মকান্ড বলি। এখন বিয়ে করতে রাজি নয়।  যে কারণে ধর্ষন মামলা। ওই দুই জনের ইচ্ছায় এ দৈহিক মেলামেশাকে ধর্ষণ বলা কতটা ঠিক হবে ? এখানে প্রতারনার মত ঘটনা ঘটেছে বা অনৈতিক কর্মকান্ড হয়েছে সেটা শতভাগ নিশ্চিত। প্রতারনা ও অনৈতিক কর্মকান্ডও একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু প্রতারণা বা অনৈতিক কর্মকান্ড আর ধর্ষন কি এক বিষয় ?
একটি পুরুষ একটি নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দৈহিক মেলামেশা করে পরে যখন ওই পুরুষ বিয়ে করতে রাজি না হয় তখন যদি ওই পুরষের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়। তাহলে যে নারীটি ভালোবাসা ও ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়ে পুরষটিকে দীর্ঘ সময় ব্যবহার করেন। পরে ওই পুরুষকে বিয়ে করতে রাজি হয় না। অন্য পুরুষকে বিয়ে করেন তাহলে ওই নারীর বিরুদ্ধে কোন আইনে কিসের মামলা হবে ? ইচ্ছা সাপেক্ষে দৈহিক মেলামেশায় বাংলাদেশী আইনে যাকে অনৈতিক কর্মকান্ড বলে পরবর্তীতে দ্ব›দ্ব হলে নারীটি প্রতারণার শিকার হয়ে যদি ধর্ষণ মামলার সুযোগ পায়। তাহলে পুরুষটি যদি প্রতারণার শিকার হয় তাহলে সেই পুরুষ একই মামলার সুযোগ কেন পাবে না ?
শুধু নির্যাতিত পরিবার সঠিক বিচার পাবে সেইটা ন্যায় বিচার নয়, অপরাধীরা যেটুকু অপরাধ করেছে সেটুকু সাজা পাবে সেই বিষয়টিও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। মুরগী চোরের যেন খুনের শাস্তি না হয়। আবার খুনীকে যেন মুরগী চুরির সাজা দেয়া না হয়।
অনেকেই ধর্ষকদের ক্রসফায়ার দাবী করছেন। ক্রসফায়ার কি কোনো আইনী বিচার ব্যবস্থা ? আমরা চাই সমাজের প্রতিটা অপরাধের বিচার হোক। কিন্তু একটি অপরাধের বিচার করতে যেন আর একটি অপরাধ না হয়। ধর্ষন যেমন একটি অপরাধ তেমনি ক্রসফায়ারও একটি অপরাধ। ধর্ষণের বিচারের জন্য আইনের সঠিক ব্যবহার আমরা চাই। তবে তার আগে আমাদের পরিবারগুলোকে ধর্ষক মুক্ত করতে হবে। পরিবার থেকে ধর্ষণ প্রতিরোধ করতে হবে। তবেই দেশ ধর্ষক মুক্ত হবে।
লেখকঃ আসাদুজ্জামান সাজু, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ), লালমনিরহাট জেলা ইউনিট।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!