হোম » সারাদেশ » তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

বিশেষ প্রতিনিধি
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে অফিসের চাবির গোছা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম ফারুকের বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসনের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ভুয়া এতিমখানার নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম ফারুকের বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত দেবনাথ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রশাসনের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, কাগজে-কলমে ১০ জন এতিম দেখিয়ে ১৮ মাসে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দ উত্তোলন করা হলেও বাস্তবে ওই শিশু সদনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের ভাষ্য, তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান ২২ জুলাই উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে আসেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের কাছে প্রতিবেদনের একটি কপি চান। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রতিবেদন দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ওই ঘটনার পর কার্যালয়ের চাবির গোছা নিখোঁজ হয়।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অফিস সহকারীদের কাজের ফাঁকে চাবির গোছা একটি ফাইলের ভিতর প্রথমে ঢুকিয়ে আড়াল করে এবং পরে নিজের পকেটে নিয়ে কার্যালয় ত্যাগ করেন বলে উপজেলা প্রশাসনের দাবি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাবি ফেরত চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তা ফেরত না পাওয়ায় আইনি পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। পরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর চাবির গোছাটি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ফেরত প্রদান করেন চেয়ারম্যান ।

তবে এ বিষয়ে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ বি এম ফারুক। তিনি বলেন, “ভুলবশত চাবির গোছাটি আমার পকেটে চলে যায়। আমার নিজের কাছেও একই ধরনের একটি চাবির গোছা থাকায় অসাবধানতাবশত এটি নিয়ে ফেলি। ইউএনও কার্যালয় থেকে ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চাবিটি ফেরত দিয়েছি।” ভুয়া এতিমখানার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার একটি এতিমখানা রয়েছে; তবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষিত নেই। ঘটনাটি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।এমনটাই জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, “বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছি।”

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!