হোম » সারাদেশ » একটি ড্রেন বন্ধ, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর সদরের ৫ গ্রাম

একটি ড্রেন বন্ধ, জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত জামালপুর সদরের ৫ গ্রাম

রবিউল হাসান লায়ন , জামালপুর

একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি নিষ্কাশন ড্রেন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জামালপুর সদরের হরিপুর, দড়িফতেপুর, মাছিমপুর, বগালী ও মাঝিপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতায় ভুগছে। এ কারণে প্রায় ২০০ একরের বেশি ফসলি জমি বছরের পর বছর অনাবাদি পড়ে আছে। পাশাপাশি অসংখ্য বসতভিটা পানিবন্দি থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এলাকাবাসী।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্ষা মৌসুমে পাঁচ গ্রামের আবাদি জমি ও বসতভিটা পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বছরের অধিকাংশ সময় প্রায় দুই শতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় সাপ, বিচ্ছু ও বিষাক্ত পোকামাকড়ের উৎপাত বেড়েছে। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় এলাকায় জোঁকেরও বিস্তার ঘটেছে এবং অনেকেই পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের একটি ব্রিজ থাকলেও এর এক পাশে মাছের পুকুর এবং অন্য পাশে বসতবাড়ি নির্মাণ ও ড্রেনের অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পাঁচ গ্রামের পানি আর নামতে পারছে না।
বগালী গ্রামের মিজানুর রহমান বিন্দু মাস্টার বলেন, “আমাদের বাড়ির সামনে ড্রেন ঠিক আছে। অবশিষ্ট অংশ অন্যরা ভরাট করেছে। আমাদের কারণে ড্রেনের কোনো সমস্যা হয়নি।”
মাছিমপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, “পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাঁচ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে আছেন। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
বীর মুক্তিযোদ্ধা এমদাদ হোসেন বলেন, “পাঁচটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। সাপের পাশাপাশি বিচ্ছু পর্যন্ত বিছানায় উঠে আসে। বছরের পর বছর পানি জমে থাকায় জোঁকের উপদ্রব বেড়েছে। দ্রুত ড্রেন সংস্কার করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।”
হরিপুর গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, “আগে এসব জমিতে বছরে তিনটি ফসল হতো। কিন্তু গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরে প্রায় ২০০ একর জমি পানির নিচে থাকায় অনাবাদি হয়ে আছে। ঘরে সাপ ঢোকে, মানুষের হাতে-পায়ে ঘা হচ্ছে এবং পানিবাহিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে।”
এলাকাবাসীর দাবি, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের পাশ দিয়ে নতুন ড্রেন নির্মাণ অথবা বিদ্যমান ড্রেন ও ব্রিজের মুখ সংস্কার করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করা হলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। এতে কৃষিজমি রক্ষা পাবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, “বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!