হোম » সারাদেশ » নওগাঁয় নয়টি হোটেল গভীর রাতে একযোগে তল্লাশি, প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য সহ পাঁচজন গ্রেফতার

নওগাঁয় নয়টি হোটেল গভীর রাতে একযোগে তল্লাশি, প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য সহ পাঁচজন গ্রেফতার

নওগা প্রতিনিধি

নওগাঁ সদর থানা এলাকায় একই দিনে প্রতারণা এবং রাসায়নিক স্প্রে /শয়তানের নিঃশ্বাস প্রয়োগের মাধ্যমে দুইটি স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেবার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি নওগাঁ শহরস্থ চুরিপট্টির ভিতরে নওগাঁ মিষ্টান্ন ভান্ডার এর সামনে বেলা অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় একজন বয়স্ক মহিলা কে (৭০) কে অজ্ঞাত নামা কিছু ব্যক্তি শয়তানের নিঃশ্বাস প্রয়োগের মাধ্যমে অচেতন করে। ঐ সময় কৌশলে তারা ভিকটিম কে রিক্সায় উঠিয়ে নিয়ে তার শরীরে পরিহিত স্বর্ণের চেইন,কানের দুল এবং নগদ ৫০০০/- টাকা নিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় ডিগ্রীর মোড় ময়লা ফেলা নামক স্থানে ফেলে দিয়ে চলে যায়।পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। পরবর্তীতে ভিকটিম বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্হায় ভিকটিম ফাতেমা বেগম (৭০) ২৫/৬/২০২৬ খ্রিঃ মৃত্যু বরন করেন।

অপর একটি ঘটনায় একজন বয়স্ক দম্পতি তার ছেলের বাড়িতে আসার পথে ঢাকা বাস স্ট্যান্ড হতে লিটন ব্রীজের মাঝামাঝি এলাকায় দুপুর অনুমান ১২.০০ টার দিকে পরস্পর জোগসাজসে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা স্বর্ণেরবারের লোভ দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এবং রাসায়নিক স্প্রে প্রয়োগের মাধ্যমে সম্মোহিত করে জোরপূর্বক তাদের কাছ থেকে ০৬ আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে নেয়।

এই সংক্রান্তে নওগাঁ সদর থানায় আলাদা দু’টি মামলা রুজু করা হয়। বিষয়টি সিরিয়াসলি নিয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদের তারিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম, অফসার ইনচার্জ নওগাঁ সদর থানা, এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি সমন্বিত টিম গঠন করা হয় ।
পুলিশ সুপার, নওগাঁ জেলা এর নির্দেশে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযানিক দল নওগাঁ শহরের নয়টি হোটেলে একযোগে ২৭ তারিখ গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়, এছাড়াও অন্যান্য স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিরামহীন অভিযান পরিচালনা করে নওগাঁ সদর থানার নওগাঁ রেস্টহাউজ হোটেল থেকে ও অন্য এলাকা হতে ২৭/৬/২০২৬ খ্রিঃ ১। মোঃ আব্দুল হাই ২। মোঃ এরশাদ আলী ৩। বাবলু এদের বাড়ি গাইবান্ধা এবং ৪। মো: কালাম বাড়ি নবাবগঞ্জ,দিনাজপুর কে গ্রেফতার করা হয় । তাদের কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানায় যে,তারা চার জন সহ আরও ২/৩ জন মিলে উল্লিখিত দ্বিতীয় ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করে, অর্থাৎ ঢাকা বাস স্ট্যান্ডে স্বর্ণের বারে লোভ দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এবং সম্মোহিত করে মহিলার স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনায় চুরি কৃত গয়না টি আসামি এরশাদ নওগাঁ স্বর্ণপট্টি বাজারে মুহিব জুয়েলার্স এর ম্যানেজার জনৈক জাহাঙ্গীর এর নিকট বিক্রি করেছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা আসামী এরশাদ এর দেখানো মতে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড হতে লিটন ব্রীজের মাঝের এলাকায় চুরি হওয়া বয়স্ক দম্পত্তির ০৬ আনা স্বর্ণের দুল এর ক্রেতা নওগাঁ স্বর্ণপট্টির মুহিদ জুয়েলার্স এর ম্যানেজার মোঃ জাহাঙ্গীর কে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে চোরাই স্বর্ণ ক্রয়ের কথা স্বীকার করে এবং কানের দুল জোড়া গুলিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানায় এবং জাহাঙ্গীর এর বাহির করে দেয়া মতে গলানো অবস্থায় তার কাছ থেকে ০৪ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।উল্লেখ্য যে জাহাঙ্গীর ইতিপূর্বেও নওগাঁ জেলার স্বর্ণপট্টিতে চোরাই স্বর্ণ ক্রয় বিক্রয়ের সাথে জড়িত ছিল মর্মে জানা যায়।

ধৃত আসামীদের অন্যান্য স্বর্ণ এবং টাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সেগুলো তাদের পলাতক সহযোগীর কাছে আছে বলে জানায়। পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতার করে অবশিষ্ট চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!