
এম আর ওয়াসিম ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ হাজার ঘুষের টাকা নিতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়লেন ভৈরবে সদ্য পদন্নোতি প্রাপ্ত হৃদয় মিয়া। উপজেলার হৃদয় মিয়া। এই ঘটনায় ভৈরবে তুলপাড় সৃষ্টি হয়ে গেছে। এর জের ধর ভৈরব উপজেলা কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রসিদ ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক হয়ে এখন চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সদ্য পদোন্নতি পাওয়া অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়া।
উল্লেখ্য যে, গত রোববার (২১ জুন) সকালে ভৈরব উপজেলা পরিষদ চত্বরে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের ফাইলের বিনিময়ে টাকা লেনদেনের সময় তাকে আটক করেন ডিজিএফআই-এর এক কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের একটি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের জন্য ঘুষ হিসেবে ৭ হাজার টাকা গ্রহণের সময় ডিজিএফআই কর্মকর্তা আব্দুস সালাম অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়।
অন্যদিকে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ চন্দ্র দাসের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ২১টি ফাইলের বিপরীতে হৃদয় মিয়া ২১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। সেই দাবির অংশ হিসেবেই তিনি প্রথম কিস্তির ৭ হাজার টাকা প্রদান করার সময় এই আটকের ঘটনা ঘটে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া। তার দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব প্রদীপ চন্দ্র দাস পরিকল্পিতভাবে তাকে ফাঁসিয়েছেন। অফিসে প্রবেশের সময় হ্যান্ডশেক করার ছলে তার হাতে টাকা গুঁজে দেওয়া হয় এবং পরে সেটিকে ঘুষ হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। অডিট কর্মকর্তার ভাষ্য মতে বিষয়টি এমন পর্যায়ে লক্ষ্য করা যায় যে, পূজার ঘরে কে রে? চোর বলে আমি কলা খাই না।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে আজ সোমবার (২২ জুন) ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম.মামুনুর রশিদ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। ইউএনও জানান, বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন এবং পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে আজ ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো: সোহেল মিয়ার সাথে কথা বললে তিনি জানান,ঘটনাটি আমার অফিসের বাইরে (উপজেলা চত্বরে) ঘটেছে। এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের সাথে আমার পর পর বৈঠক হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি এখন তদন্তাধীন, তাই এই মুহূর্তে আমার পক্ষে বিস্তারিত বা চূড়ান্ত কিছু বলা সম্ভব নয় ।
হৃদয় মিয়া আজ অফিসে উপস্থিত আছেন কিনা জানতে চাইলে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্ত অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়া আজ (সোমবার) থেকে ছুটিতে আছেন।
এদিকে ছুটির বিষয়টি জানার পর অভিযুক্ত হৃদয় মিয়ার বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফাইল অনুমোদন ও সইয়ের বিনিময়ে টাকা আদায়ের নানা গুঞ্জন ও অভিযোগ শোনা গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেসব অভিযোগ প্রমাণের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এবার প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে একজন কর্মকর্তার হাতেনাতে আটক হওয়া এবং তদন্ত কমিটি গঠনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন
মধুপুর পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট ঘোষণা
কিস্তির টাকায় কেনা অটোভ্যান চুরি, দিশেহারা আলমগীর মুন্সির পরিবার
পীরগঞ্জে মৎস্য চাষিদের মাঝে চুন, ও মাছের খাদ্য বিতরণ