হোম » সারাদেশ » মোল্লাহাটে মসলার বাজারে আগুন; বাড়তি দামে বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

মোল্লাহাটে মসলার বাজারে আগুন; বাড়তি দামে বিপাকে সাধারণ ক্রেতা

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনা অঞ্চলের বাজারগুলোতে অস্থির হয়ে উঠেছে মসলার বাজার। পাইকারি থেকে খুচরা—সব পর্যায়েই বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মসলার দাম। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। মঙ্গলবার (২৬ মে) বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাড়ফা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এলাচ, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ, জিরা, শুকনা মরিচ ও চুই ঝালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেড়েছে কয়েক দফায়। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর মসলাগুলোর দাম গত দুই সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে বাজারে মানভেদে এলাচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকায়। যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৪ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। এছাড়া দারুচিনি ৫০০-৫৫০ টাকা, গোলমরিচ ১ হাজার ১০০-১ হাজার ২০০ টাকা, লবঙ্গ ১ হাজার ৩৫০-১ হাজার ৬০০ টাকা এবং জিরা ৬০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাজুবাদাম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে।
ঈদকে ঘিরে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে চুই ঝালও। বাগেরহাটের ফকিরহাটে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চুই ঝাল বিক্রি হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা জানান, বাড়তি চাহিদার কারণে আগের তুলনায় এর দামও বেড়েছে।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, এলসি খোলার জটিলতা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি, ডলারের উচ্চমূল্য এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ায় আমদানিনির্ভর মসলার বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
গাড়ফা বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী বলেন, “রমজানের ঈদের সময় এলাচের দাম ছিল ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে ভালো মানের এলাচ ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই প্রায় সব মসলার দাম ৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।”
এক মুদি ব্যবসায়ী জানান, “ঈদ উপলক্ষে এলাচ, দারুচিনি, জিরা ও লবঙ্গের বিক্রি বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়েছে।”
খুচরা বিক্রেতা জাহিদ শেখ বলেন, “চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের মসলা বাজারে আনা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধের প্রভাবেও দাম বেড়েছে। বাজার স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে বলে আশা করছি।”
এদিকে মসলার বাড়তি দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। বাজারে আসা ক্রেতা সাকিব বলেন, “মসলার এত দাম যে এখন কেজি হিসেবে কেনা যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প অল্প কিনতে হচ্ছে। দুই মাসের ব্যবধানে অনেক মসলার দাম বেড়েছে। বাজার মনিটরিং বাড়ানো দরকার।”
আরেক ক্রেতা বলেন, “সবকিছুর দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি প্রয়োজন।”
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!