হোম » সারাদেশ » বগুড়ায় কোরবানির পশুর হাটে চরম অব্যবস্থাপনা: ইজারাদারদের পকেট ভারী, ক্ষুব্ধ ক্রেতা-বিক্রেতা ​

বগুড়ায় কোরবানির পশুর হাটে চরম অব্যবস্থাপনা: ইজারাদারদের পকেট ভারী, ক্ষুব্ধ ক্রেতা-বিক্রেতা ​

বগুড়া থেকে রায়হানুল ইসলাম
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বগুড়ায় প্রায় ৩০ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা: মো: রায়হান । যা দেশে কুরবানী পশুর চাহিদা মেটাতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তবে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও জেলার হাটগুলোতে দেখা দিয়েছে চরম অব্যবস্থাপনা। হাটের নির্দিষ্ট জায়গা পেরিয়ে মূল রাস্তা অবরোধ করে বসছে পশুর হাট, আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইজারাদারদের খাজনার নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি। প্রশাসনের নীরবতায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছ থেকে ইচ্ছেমতো অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
​সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়ার রাজাপুর ইউনিয়নের ‘জয়বাংলা হাট’ এবং শাখারিয়া পল্লী মঙ্গল হাটের নিজস্ব কোনো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ইউনিয়ন পরিষদ ও ভূমি অফিস এর জায়গায়বসানো হয়েছে হাট। সেখানেও জায়গা পর্যাপ্ত  না হওয়ায় হাটগুলো সরাসরি মূল রাস্তা অবরোধ করে বসানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে সোনাতলা,কলেজ স্টেশন,সুকানপুকুর  এলাকার মানুষকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে বগুড়া শহরে প্রবেশ করতে হচ্ছে। জয় বাংলা, শাখারিয়া পল্লীমঙ্গল,সাবগ্রাম,  কালিতলা হাটে রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে অবাধে চলছে পশু বেচাকেনা।
খাজনার নামে ‘রীতিমতো ডাকাতি’ :
​সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে হাটগুলোতে চলছে ইজারাদারদের স্বেচ্ছাচারিতা।
​কালিতলা ও বনানী হাট: এই হাটগুলোতে প্রতি গরুতে ক্রেতার কাছ থেকে ১,২০০ টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ২০০ টাকা—সর্বমোট ১,৪০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
​মহাস্থান হাট: ঐতিহাসিক মহাস্থান হাটেও একই চিত্র। সেখানেও ১২শ থেকে ১৪০০ টাকা অতিরিক্ত খাজনা আদায়ে অতিষ্ঠ ক্রেতা-বিক্রেতারা।
​জয়বাংলা হাট: রাস্তা দখল করে বসা এই হাটে ক্রেতা-বিক্রেতা মিলিয়ে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত খাজনা গুনতে হচ্ছে।
​লুকোচুরির নতুন কৌশল: সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইজারাদাররা যে খাজনার স্লিপ বা রশিদ দিচ্ছেন, সেখানে খাজনার কোনো পরিমাণ (টাকার অঙ্ক) লেখা হচ্ছে না। ফলে সরকারি কোনো তদারকি এড়াতে এবং প্রমাণ লোপাট করতেই এই অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছে ইজারাদার চক্র।
​বিপাকে প্রান্তিক কৃষক ও ক্রেতারা:
​হাটে আসা একাধিক প্রান্তিক কৃষক ও খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গাভী-বলদ লালন-পালন করতে গিয়ে এমনিতেই গোখাদ্যের চড়া দামের কারণে বুক ফেটে যাচ্ছে। তার ওপর হাটে আনলে খাজনার নামে যা চলছে, তা রীতিমতো জুলুম। দেখার কেউ নেই।” দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতারাও বলছেন, কোরবানির পশুর চড়া দামের পাশাপাশি অতিরিক্ত খাজনা দিতে গিয়ে তাদের বাজেট হিমশিম খাচ্ছে।
​প্রশাসনের নীরব ভূমিকা:
​সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, পশুর হাটে নির্ধারিত তালিকার বেশি খাজনা নেওয়া যাবে না এবং হাটের চার্ট দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু বগুড়ার অধিকাংশ হাটে এই নিয়মের কোনো বালাই নেই। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
এ বিসয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে ফোন দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
​সচেতন মহলের দাবি, ঈদের বাকি দিনগুলোতে সাধারণ কৃষক ও ক্রেতাদের এই হয়রানি থেকে বাঁচাতে এবং রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত করতে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!