হোম » সারাদেশ » পীরগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরি ও কৃষক হত্যায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

পীরগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরি ও কৃষক হত্যায় জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জের আলোচিত ট্রান্সফরমার চুরি ও কৃষক মফিজার রহমান হত্যা মামলার জড়িতদেও ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পীরগঞ্জ থানা ও ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার থেকে খুলে নেওয়া চোরাই তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার রংপুর জেলা পুলিশ সাংবাদিকদের জানান, ৭ মে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুরে গভীর নলকুপের সেচ ঘর থেকে কৃষক মফিজার রহমানের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি রাতে নিজেদের বিএডিসির সেচ ট্রান্সমিটার পাহারার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ৬ মে বুধবার রাতে মফিজার রহমান উমরপুর মাঠের সেচ ঘরে পাহারায় যান। ৭ মে বৃহস্পতিবার সকালে শহিদুল ইসলাম নামে এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে গেলে সেচ ঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সমিটার খুলে নেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মফিজার রহমানের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই মতিয়ার রহমান পীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পীরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও চুরি মামলাটি ছিল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক ছিল। নিহত মফিজার রহমান (৪৬) ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বাধা দিতে গেলে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করার পর জড়িতদের শনাক্ত করতে রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে।
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর সার্বিক সহযোগিতায় ২৩ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত রংপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেনÑগাইবান্দার পলাশবাড়ির চকবালার মৃত নজমাল শেখের ছেলে খেজমতপুরের জামিরুল ইসলাম (৩২), বাঁশকাটার মৃত আজিজারের ছেলে নূরুল আমিন (৬৮), বেড়াডাঙ্গার মৃত গেল্লা সরদারের ছেলে আমিরুল ইসলাম সরদার (৫৫)। গোবিন্দগঞ্জের পুরন্দুরের মৃত মজিবরের ছেলে সবদুল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪), সাদুল্লাপুরের কাবিলপুর সোনাতলার আজাহার আলীর ছেলে আনিছুর রহমান (৪০) জয়পুরহাটের কালাইয়ের আমলাপুকুরের তফিজার মুন্সির ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮) ও বগুড়ার মোকামতলার আব্দুল ওয়াহাব ওরফে শফিকুল (৩৫)।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা মফিজার রহমানকে হত্যা করে ট্রান্সফরমার চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি নোয়া মাইক্রোবাস, একটি সিএনজি, ট্রান্সফরমার কাটার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং তিনটি ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা চোরাই তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক গণমাাধ্যমকে জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি করে আসছিল। চক্রটি ট্রান্সফরমার ভেঙে ভেতরের তামার কয়েল সংগ্রহ করে বিক্রি করত। মামলাটি ছিল ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’। কোনো দৃশ্যমান সূত্র না থাকলেও প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে ।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!