
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বিড়ি শিল্পের উপর শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে জেলা বিড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার (১৩ মে) সকাল ১১টায় বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিসের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শ্রমিক অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বিড়ি শিল্পকে শ্রমিকবান্ধব নীতির আওতায় রাখা হয়েছিল। সে সময় বিড়িকে “গরিব মানুষের সিগারেট” হিসেবে বিবেচনা করে অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়নি। বক্তারা দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকেও তারা একই ধরনের জনবান্ধব সিদ্ধান্ত প্রত্যাশা করছেন। শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— বিড়ির ওপর শুল্ক বৃদ্ধি না করা, বিড়ি শ্রমিকদের কর্মদিবস বৃদ্ধি, নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি, লাইসেন্সধারী বিড়ি কারখানাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক ব্যান্ডরোল উত্তোলন এবং নকল বিড়ি উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
মানববন্ধন শেষে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। বক্তারা বলেন, বিড়ি শিল্প একটি দেশীয় শ্রমনির্ভর শিল্প, যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে প্রায় ১৮ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা। কিন্তু বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানির প্রতিযোগিতা, নীতিগত বৈষম্য এবং অতিরিক্ত করের চাপে শিল্পটি বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে। অনেক বৈধ বিড়ি কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে শ্রমিকরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
তারা আরও বলেন, দেশের তামাক বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ বর্তমানে নিম্নস্তরের সিগারেট কোম্পানির দখলে চলে গেছে। এতে দেশীয় বিড়ি শিল্প ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই দেশীয় শিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধি এবং নকল বিড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা। একইসঙ্গে লাইসেন্সধারী বিড়ি কারখানার জন্য ব্যান্ডরোল উত্তোলন বাধ্যতামূলক করারও আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হারিক হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম ইসলাম এবং শ্রমিক নেতা সোহেল রানা প্রমুখ।
এ সময় শ্রমিকদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সেখানে দেশীয় শিল্প রক্ষা, বহুজাতিক কোম্পানির প্রভাব প্রতিহত করা এবং বিড়ি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন
আড়ানী ডিগ্রি কলেজে ৩১টি নতুন ডেস্কটপ কম্পিউটার প্রদান