
আবুল হাশেম
রাজশাহীর আম বাগান গুলোতে এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হচ্ছে। তীব্র খরা আর পোকার আক্রমণ নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও, বাঘাসহ পুরো জেলায় এবারও বাম্পার ফলন এবং সুস্বাদু আমের আশা করছেন বাগানমালিক ও কৃষি বিভাগ।
চলতি ২০২৬ মৌসুমে রাজশাহী জেলায় মোট ১৯ হাজার ৩৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
তীব্র তাপদাহের কারণে কিছু বাগানে গুটি ঝরে পড়ার ঘটনা ঘটলেও সামগ্রিক ফলন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চাষিরা। বিশেষ করে বাঘা উপজেলার আম চাষিরা আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে আমের গুণগত মান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
বাঘা উপজেলার আমের বিশেষ সুনাম থাকায় স্থানীয় কৃষি বিভাগ চাষিদের নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান,আমরা আম চাষিদের মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফলন সংগ্রহ পর্যন্ত নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এবার বাঘায় আমের ভালো ফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আশা করছি, চাষিরা এবার আমের ন্যায্য দাম পাবেন এবং বিদেশে আম রপ্তানির ধারাও অব্যাহত থাকবে।
অসাধু উপায়ে অপরিপক্ক আম বাজারজাতকরণ রোধে জেলা প্রশাসন আম পাড়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ১৫ মে থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসবে
১৫ মে গোপালভোগ, রানীপছন্দ, লক্ষণভোগ (লখনা),১০ জুন ল্যাংড়া ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি ৫ জুলাই বাড়ি আম-৪ ১০ জুলাই আশ্বিনা ১৫ জুলাই গৌরমতি।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের আগে আম পাড়া হলে বা কেমিক্যাল ব্যবহার করে আম পাকানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাটে এবং আড়তগুলোতে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের জন্য বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
সুস্বাদু ও বিষমুক্ত আম মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাষি ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এখন কেবল অপেক্ষা ১৫ মে-র, যখন রাজশাহীর রসালো আমে সুবাসিত হবে দেশের বাজার।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান