
এম আর ওয়াসিম ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি :
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও ম্যাসেঞ্জারে হুমকি দেয়ার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা দুইদিনের সংঘর্ষের পর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। এ সময় প্রায় শতাধিক টেঁটাসহ ৩টি বাড়ি থেকে লুট হওয়া গৃহস্থলীতে ব্যবহার করা আসবাবপত্র উদ্ধার করা হয়। ৮ মে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টায় উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরের সোলাইমানপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব টেঁটাসহ লুট হওয়ার আসবাবপত্র উদ্ধার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরের সোলাইমানপুর এলাকার আব্দুল্লাহ মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (২৪) ও একই এলাকার আক্কাস উদ্দিন ভুঁইয়ার ছেলে মহরম আলী (৩৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস ও ম্যাসেঞ্জারে হুমকি ধামকিকে কেন্দ্র করে টানা দুইদিন শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরের সোলাইমানপুর এলাকার একই বংশের মধু মুন্সি বাড়ির সাথে দিল মোহাম্মদের বাড়ির মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। মধু মুন্সির বাড়ির একটি পক্ষ মাসুম মিয়া ও আরেকটি পক্ষ ফরহাদ মিয়া। দীর্ঘদিন যাবত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। ৭ মে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়। পরদিন ৮ মে ম্যাসেঞ্জারে হুমকি দিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ। এতে ১০ জন আহত হয়। এই ঘটনার জের ধরে ৮ মে দিবাগত রাতের আধারে ফরহাদ মিয়ার পক্ষ মাসুম মিয়ার পক্ষের নাসির উদ্দিনের বাড়ি, জামাল মিয়া ও দুলাল মিয়ার বাড়ি লুটপাট ও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে রাতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারের হুমকি ধামকির তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে টানা দুইদিন যাবত একই বংশের দুইপক্ষের সংঘর্ষ হয়। দীর্ঘদিন যাবত দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ ছিল। ৮ এপ্রিল সকালে সংঘর্ষের খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রাতে ফরহাদ মিয়ার পক্ষ মাসুম মিয়ার পক্ষের তিনটি বাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা চালিয়ে লুটপাট করে। রাতেই আর্মিসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নাঈম ও মহরম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করি। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া আসবাবপত্রসহ প্রায় শতাধিক টেঁটা উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হব।
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হলেন-সানি, হৃদয়, ফরহাদ, জহির গোলাপ, ইসমাইল মিয়া, জুয়েল মিয়া, সগির আহমেদ ও রাজু মিয়া। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। বাকিরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন। জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের ময়দর মুন্সিবাড়ির সঙ্গে বধুর গোষ্ঠীর মধ্য দ্বন্দ্ব চলছিল। এরই জের ধরে ময়দর মুন্সিবাড়ির ফরহাদের সঙ্গে একই বাড়ির মাসুমের লোকজন দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী চলা টেটা যুদ্ধে দুপক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। পরে খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ময়দর মুন্সিবাড়ির স্থানীয় ইউপি সদস্য মেরাজ মিয়া বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বধুর গোষ্ঠীর লোকজন আমাদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আমাদের পক্ষের ১০ জনের বেশি লোক আহত হয়েছে। বধুর গোষ্ঠীর বাদশা মিয়া বলেন, ময়দর মুন্সিবাড়ির মাসুম মিয়া আমাদের বংশের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তাদের বংশের মেরাজ মেম্বার ও ফরহাদ মিয়ারা মাসুমকে মারধর করে। এ ঘটনা কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্য সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার তদন্ত কর্মকর্তা লিমন বোস জানান, উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরের সোলায়মানপুর এলাকার ময়দর মুন্সিবাড়ির মাসুম মিয়ার সঙ্গে একই বংশের ফরহাদের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই দুই বংশের টেটা যুদ্ধ কে কেন্দ্র করে৷ উভয় পক্ষের বেশ কিছু বাাড়ি ঘর লুটপাট হয়। এরই প্রেক্ষিতে ভৈরব আইন শৃংখলা বাহিনী সাঁড়াশী অভিযান পারচালনা করে বিপুল পরিমাণ টেটা সহ দুই জন কে গ্রেফতার করে ও বেশ কিছু মাল সামানা উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অস্ত্র হাতে মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি: প্রার্থী রনি গ্রেপ্তার
লালমোহনে বাস চাপায় প্রাণ গেল শিশুর
মির্জাপুরে মারধর ও ধর্ষণের ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবাসীর স্ত্রীর মৃত্যু