
রায়হান শেখ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট প্রতিনিধি
১৪ এপ্রিল প্রতি বছর উদযাপিত হয় বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের সূচনালগ্নে পালিত এই দিনটি বাঙালি জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। নতুন বছরের সূচনার পাশাপাশি এটি জাতীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক প্রাণবন্ত প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবর-এর শাসনামলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের পহেলা বৈশাখ পরিণত হয়েছে সর্বজনীন উৎসবে, যা গ্রাম থেকে শহর—সর্বত্র সমান উৎসাহে পালিত হয়।
গ্রামবাংলায় বসবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা, আর শহরে আয়োজন করা হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা লোকজ উৎসব। বিশেষ করে মঙ্গল শোভাযাত্রা এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ, যা বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও নিজ নিজ উদ্যোগে এ দিনটি উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বিশেষ করে ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে দেখা যায় আলাদা উৎসাহ। অনেক ব্যবসায়ী এদিন ঐতিহ্যবাহী হালখাতা-র আয়োজন করবেন। পুরাতন হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার এই রীতির মাধ্যমে ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয় এবং ব্যবসায়িক লেনদেনে নতুন সূচনা ঘটে।
পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর অন্তর্ভুক্তিমূলক চেতনা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একসঙ্গে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করে, যা জাতীয় ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। লোকসংগীত, নৃত্য, শিল্পকলা ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে বাঙালির হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পহেলা বৈশাখ কেবল উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাঙালির শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এবং একটি প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও সংস্কৃতিমনা বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক