
মেহেদী হাসান মামুন, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষণ বাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে এক প্রাচীন বটগাছ, যা স্থানীয়দের কাছে ‘বটতলা’ নামেই বেশি পরিচিত। শুধু একটি গাছ নয়, এটি যেন পুরো এলাকার পরিচয় বহনকারী একটি জীবন্ত ইতিহাস।
গাছটির সঠিক বয়স নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে না পারলেও, স্থানীয়দের দাবি—তাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেও এই বটগাছটি একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে। লোকমুখে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, গাছটির বয়স আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩৫০ বছরেরও বেশি হতে পারে।
একসময় এই বটগাছকে ঘিরে ছিল নানা ভয় ও অলৌকিক ঘটনার গল্প। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে গাছের আশপাশে অদ্ভুত শব্দ শোনা যেত। আবার অনেকেই বড় আকারের সাপ দেখার কথাও জানিয়েছেন। এসব কারণে এক সময় গাছটির নিচ দিয়ে একা চলাচল করতে সাহস করত না কেউ। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই ভয়ের পরিবেশ এখন অনেকটাই কৌতূহল ও আকর্ষণে রূপ নিয়েছে।
স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এই বটগাছটি এক নজর দেখতে আসছেন। অনেকে আবার গাছটির নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন।
বিশাল এই বটগাছটির ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকাজুড়ে এক প্রাকৃতিক ছাউনি তৈরি করেছে। গাছটির উপর থেকে অসংখ্য ঝুরি নেমে এসে মাটিতে গেঁড়ে নতুন কাণ্ডের মতো বিস্তৃত হয়েছে। ফলে একটি গাছই যেন ছোট একটি বনের রূপ নিয়েছে।
গাছটির মূল কাণ্ড আলাদা করে চেনা কঠিন—ঝুরি ও শাখা-প্রশাখা মিলেই তৈরি হয়েছে একাধিক স্তম্ভের মতো কাঠামো, যা এর প্রাচীনত্বের নীরব সাক্ষ্য বহন করে। ঘন পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো মাটিতে পড়ে সৃষ্টি করছে ছায়া-আলোর এক অপূর্ব পরিবেশ, যা জায়গাটিকে দিনের বেলাতেও কিছুটা রহস্যময় করে তোলে।
উপজেলার বিভিন্ন স্থানে থাকা অনেক পুরোনো বটগাছ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হলেও, লক্ষণ বাড়ি এলাকার এই বটগাছটি ব্যতিক্রম। স্থানীয় জমির মালিক ও বাসিন্দারা গাছটির প্রতি বিশেষ যত্নশীল। মূলত ‘বটতলা’ নামেই এলাকার পরিচিতি হওয়ায়, গাছটি সংরক্ষণে তারা সচেতন ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয়দের মতে, এই বটগাছটি শুধু একটি প্রাকৃতিক নিদর্শন নয়, বরং এটি তাদের ঐতিহ্য, স্মৃতি ও গর্বের অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন
নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর তেতুলিয়া নদী থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ভোলাহাট সীমান্তে ৩ আসামীসহ ১২৪ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ আটক
সরিষাবাড়ীতে সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা