
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ (আমতলী–তালতলী–বরগুনা সদর) আসনের প্রার্থীরা গণভোটের পক্ষে কার্যকর প্রচার চালাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ উঠেছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। ভোটারদের দাবি, প্রার্থীরা নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও গণভোট বিষয়ে জনসভা ও পথসভায় তেমন কোনো বক্তব্য দিচ্ছেন না। এতে গণভোট সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি হচ্ছে না।
গত ১০ দিনের নির্বাচনী জনসভা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিএনপি প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোঃ অলি উল্লাহসহ চারজন প্রার্থীর কেউই গণভোটের পক্ষে সুস্পষ্ট প্রচার করেননি। ফলে গণভোটের প্রচারণায় ভাটা পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা গণভোটের সুফল তুলে ধরে প্রার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমতলী উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, দলের পক্ষ থেকে গণভোট প্রচারের কোনো নির্দেশনা পাইনি। তাই আমরা শুধু দলের প্রার্থীর প্রচারই করছি।
জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে বরগুনা-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী অলি উল্লাহ, ১০ দলীয় জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন এবং জাতীয় পার্টি–জেপি প্রার্থী জামাল হোসাইনের প্রচারণায় গণভোটের পক্ষে কোনো বক্তব্য বা ব্যানার দেখা যায়নি।
এদিকে গত ১৯ জানুয়ারি আমতলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের উপস্থিতিতে গণভোট প্রচারে একটি সমন্বিত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে গণভোটের পক্ষে প্রচারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তাদের নির্বাচনী সভায় এর প্রতিফলন দেখা যায়নি। এমনকি ব্যানার ও ফেস্টুনেও গণভোট সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। এতে আমতলী ও তালতলীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে গণভোট বিষয়ে আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গত ২২ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মোল্লা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী অলি উল্লাহর একাধিক জনসভা ঘুরে দেখা গেছে, তারা নানা উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিলেও গণভোটের পক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি। এমনকি তাদের নেতা-কর্মীরাও এ বিষয়ে নীরব রয়েছেন।
বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৯ জন। এর মধ্যে আমতলী উপজেলায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮ জন এবং তালতলী উপজেলায় ৮৭ হাজার ২০ জন ভোটার রয়েছেন। আমতলীর ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৬৫টি এবং তালতলীতে ৩০টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটার হক মৃধা, জুয়েল মিয়া ও শাহ আলম তালুকদার বলেন, “প্রার্থীরা নিয়মিত জনসভা করছেন, কিন্তু গণভোটের পক্ষে একবারও কথা বলতে শুনিনি। এতে সাধারণ মানুষ বিষয়টি সম্পর্কে জানতেই পারছে না।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থীর প্রতিনিধি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী বলেন,আমাদের দলের নেতা গণভোটের পক্ষে প্রচার করেন।
জাতীয় পার্টি–জেপির প্রার্থী মোঃ জামাল হোসাইন বলেন, আমরা পথসভায় সাইকেল প্রতীক ও গণভোট—উভয়ের পক্ষেই প্রচারণা চালাচ্ছি।
বিএনপি প্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সচেতন নাগরিক মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, গণভোট জনগণের বিষয়। দলমত নির্বিশেষে সকলেরই গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানো উচিত। শুধু সরকারি সংস্থার ওপর দায় চাপালে হবে না, প্রার্থীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা দলের প্রার্থীর প্রচারণা করছি। গণভোট বিষয়ে দলের নির্দেশনা পেলে তখন প্রচার চালানো হবে।
উল্লেখ্য, বরগুনা-১ আসনে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের প্রচারণা জোরেশোরে চললেও অপর দুই প্রার্থীর প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ
গোপালপুরে বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এর বাবা ইন্তেকাল করেছেন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা