
মোঃ শরিফ উদ্দিন বাবু, শেরপুর প্রতিনিধি:
বুধবার ২৮ জানুয়ারি শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলায় প্রতিদ্বনদ্বী প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের বিএনপি-জামাতের সংঘর্ষে জামায়াত নেতা শ্রীবরদী উপজেলা জামাতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় দুই উপজেলাতে উত্তেজনা কমেছে তবে আতংক বিরাজ করছে। শহরের মোড়ে মোড়ে পুলিশ দেওয়া হয়েছে।সন্ধ্যা থেকে দুই উপজেলাতে চার প্লাটুন বিজিবি নিযুক্ত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে আগামি দুই দিন প্রচার প্রচারণা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন। দুই পক্ষই এই অনুরোধ মেনে চলছেন। আজ বিকাল পাঁচটায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজে মৃতের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল রাতেই জামায়াত নেতা মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শেরপুর জেলা শহর এবং শ্রীবরদী উপজেলাতে জামায়াত নেতাকর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েনে। রাতেই বের করেন বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধাান ফটকের সামনে।
গত কাল রাতেই বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল সাংবাদিক সন্মেলনে বলেছেন জামাতের লোকজনের এক ঘুয়েমির কারণে এই অবস্থার সৃষ্ঠি হয়েছে। তিনি সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেছেন।
আজ বেলা দুইটা পর্যন্ত নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল রেজাউল করিম এর লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করা হয়।
ইসতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসা কেন্দ্র করে বিএনপি জামায়াতের মধ্যে এই মারামারি ও জামাত নেতা হত্যার বিষয়টি জেলায় টক অফ দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সত্য মিথ্যা খবর ও এআই ভিডিও প্রচার করে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্ঠা হচ্ছে। বিএনপি ও জামাতের একেক সময় একেক নেতাকর্মীর মৃত্যুর খবর ও ছবি, ভিডিও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।
জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা আব্দুল বাতেন বলেন, আমাদের নেতার মৃত্যুতে আমরা গভীর শোকাহত । আজ বিকেল পাঁচটায় শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে জানাজা নামাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এরপর রাতে তার গ্রামের বাড়ী উপজেলার গোপালখিলাস্থ গ্রামের বাড়ীতে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারী ট্রেনিং অফিসারের আয়োজনে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সকল চেয়াার দখল করে বসে ছিলো। আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়াার আগেই আমাদের কিছু কর্মীর সাথে চেয়ারে বসা নিয়ে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যা খুবই দুঃখজনক। তবে আমি চাই পরিবেশ দ্রুত শান্ত হোক এবং এ বিষয়ে আর কোন বড় ঘটনা যেনো না ঘটে তাই আমাদের উভয় পক্ষের শান্ত থাকতে হবে।
বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের নেতারা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠ তদন্ত চেয়েছেন।
শেরপুরের পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম বলেছেন এখনও মামলা হয়নি। গোয়েন্দাসহ আইন শৃংখলা বাহানী তদন্ত করছে। দোষিদের গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।
ওই দুই উপজেলায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রহমান জানায়, আজ থেকে ওই দুই উপজেলায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে তৎপর থাকবে। তিনি আরো বলেন, ওই আসনের বিএনপি এবং জামায়াতের দুই প্রার্থীর সাথে কথা হয়েছে তারাও চাচ্ছে শান্ত পরিবেশে রাখতে এবং আগামী দুই দিন নির্বাচনী প্রচারণা না করার জন্য আহবান করা হয়েছে বলে তিনি জানায়।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল