হোম » সারাদেশ » হাতীবান্ধায় ওসি’র সঙ্গে আ’লীগ নেতাদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন, প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসির ব্যাখ্যা

হাতীবান্ধায় ওসি’র সঙ্গে আ’লীগ নেতাদের গোপন বৈঠকের অভিযোগ তদন্ত কমিটি গঠন, প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসির ব্যাখ্যা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সাহাদাত হোসেন সুমাকে প্রধান করে এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ গোপন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে আমজাদ হোসেন তাজুর বাসায় ‘দাওয়াতের আয়োজন’ দেখানো হলেও সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই আয়োজনের মধ্যেই গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে হাতীবান্ধা থানার ওসি অংশ নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের ভিড় বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
আরও জানা গেছে, ওই বৈঠকে হাতীবান্ধার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে জেলার বাইরে কর্মরত প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আমজাদ হোসেন তাজু লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘ডামি প্রার্থী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি একাধিক মামলার আসামি এবং বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
এদিকে আমজাদ হোসেন তাজুর স্ত্রী শাপলা আক্তার দাবি করেন, এটি কোনো বৈঠক ছিল না; বরং তাঁদের বাসায় একটি পারিবারিক দাওয়াতের আয়োজন ছিল, যেখানে ওসি অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
তবে শনিবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ দাবি করেন, তিনি ওই আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় যাননি। অন্যদিকে লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন জানান, ওই বাসায় পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাওয়াতে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেই ওসি সেখানে যান।
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!