
মোঃ শরিক উদ্দিন বাবু, শেরপুর প্রতিনিধি:
শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রায় ৩০০ জন নেতাকর্মী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদান করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল ৪টায় শেরপুর জেলা বিএনপির প্রধান কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিএনপিতে যোগ দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেরপুর জেলার প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্র ফারহান ফুয়াদ তুহিন-এর নেতৃত্বে এই যোগদান সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে শেরপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা এবং শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব হযরত আলী নবাগত নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে দলে স্বাগত জানান। এ সময় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপিতে যোগদানকারী উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র সংগঠক আরাফাত রহমান তালুকদার, নাহিম আহম্মেদ নিলয়, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মনিবুল ইসলাম, সমন্বয়ক আশিকুর রহমান আশিকসহ তিন শতাধিক নেতাকর্মী।
যোগদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান সমন্বয়ক (মুখপাত্র) ফারহান ফুয়াদ তুহিন বলেন, “সামনে যেহেতু নির্বাচন, একটি দলীয় সরকার গঠিত হবে। আমরা বাস্তবতা বিবেচনা করে দেখেছি- বিএনপি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বড় রাজনৈতিক দল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা বিএনপিতে যোগদান করেছি।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের যে আন্দোলন করছে, তার সঙ্গে একাত্ম হয়েই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, শেরপুর জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাশেম সিদ্দিকী বাবু, সাধারণ সম্পাদক নাইম হাসান উজ্জ্বল, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নিয়ামুল হাসান আনন্দসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, তরুণ ও ছাত্রনেতাদের এই যোগদান বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও সুসংহত করবে এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শেরপুর-১ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের গণতন্ত্র, মানুষের ভোটের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছে। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের এই অন্ধকার সময়ে আমাদের পথচলা ছিল অত্যন্ত কঠিন ও বন্ধুর। ঠিক সেই কঠিন সময়ে আমাদের এই সাহসী ছোট ভাইয়েরা-তরুণ ছাত্র, যুবসমাজ নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক আন্দোলনে রাজপথে নেমে আসে।
এই আন্দোলন কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য ছিল না, এটি ছিল দেশের মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ভোটের অধিকার ফেরানোর আন্দোলন, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আন্দোলন। সেই আন্দোলনে শেরপুর জেলায় আমাদের ৩ জনসহ মোট ১৪ জন সাহসী সন্তান শহীদ হয়েছেন। তাদের রক্তের বিনিময়ে লেখা হয়েছে সংগ্রামের নতুন ইতিহাস। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই শহীদদের স্মরণ করি এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।
ডাঃ প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, শহীদদের এই ত্যাগ কখনোই বৃথা যাবে না। তারা আমাদের জন্য যে পথ দেখিয়ে গেছেন, সেই পথ ধরেই আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। বিএনপি পরিবার হিসেবে আমরা শহীদ পরিবারের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও সব সময় পাশে থাকবো। তাদের দুঃখ-কষ্ট, দাবি ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা কখনো পিছপা হবো না।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক