
শাহজাহান সাজু: কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনটি। প্রথম দফায় এ আসনে বিএনপি প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও গত ৫ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আসনটিতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে। আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ হিলালী, সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. রুহুল হোসাইন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবদলের সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল, ওলিউল্লাহ রাব্বানী, জহিরুল ইসলাম মবিন, ব্যারিস্টার আতিক, এডভোকেট ওমর ফারুক প্রমুখ।
বিগত সময়ে আসনটি থেকে প্রার্থী ও সংসদ সদস্য হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মরহুম সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মো. আশরাফ উদ্দিন মাস্টার, ডাক্তার ফজলুল করিম, এডভোকেট ফজলুর রহমান, মো. আলমগীর হোসেন, মাওলানা আতাউর রহমান খান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। এসব সম্মানিত ব্যক্তিদের সময়্যোগ্যতা অনুযায়ী বিএনপি’র হাই কমান্ড মনোনয়ন দিয়েছেন মাজহারুল ইসলামকে। মনোনয়ন ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্বসহ জেলা বিএনপির একাংশ ফুঁসে ওঠে। তারা মাজাহারকে দেয়া মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করে তিন দিনের কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে লাগাতার তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মশাল মিছিল বের হয়। মঙ্গলবার হোসেনপুর বাজার থেকে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল, বুধবার কিশোরগঞ্জ সারা শহরে খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে স্টেশন সড়কের দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম ডিয়ার আদর্শ এবং তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিশ্বাসী কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুরের তৃণমূলের বিএনপির নেতাকর্মী সমর্থক ভোটাররা মনে করছেন দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে আমরা তার পক্ষেই কাজ করে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করব। সমর্থকরা বলছেন, মনোনয়ন বাতিলের কর্মসূচি কেন? যারা মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তারা সত্যিকার অর্থে বিএনপি’র ভালো চায়না। তারা নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে দেখে।
এ আসনে ডজন খানেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সক্রিয় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম। মনোনয়ন পাওয়া মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিএনপি একটি বড় দল, অনেক প্রার্থী থাকাটাই স্বাভাবিক। সবাইকে তো আর মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। আমার প্রতি দলের আস্থা আছে বলেই মনোনয়ন দিয়েছে। রাজনীতির শিষ্টাচার ও শালীনতা বজায় রাখা উচিত। মনোনয়ন বঞ্চিতরা কেন মাজারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে টানা তিন দিনের কর্মসূচি পালন করছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, আমি মনে করি, দল যোগ্য লোককেই মনোনয়ন দিয়েছে। সবাইকে শান্ত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার জন্য কাজ করা উচিত। আর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলেই ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করে আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে।

আরও পড়ুন
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার