হোম » সারাদেশ » মোল্লাহাটে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

মোল্লাহাটে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের জমি দখল ও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

0-0x0-0-0#

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা:
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের জমি দখল ও ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টায় উপজেলার ৭ নম্বর আটজুড়ী ইউনিয়নের দত্তডাঙ্গা গ্রামের আশ্রম এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারসহ ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় শতাধিক নারী–পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, তারা সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় গত ৫ আগস্টের পর থেকে তাদের ওপর দখল, নিপীড়ন ও নানা ধরনের নির্যাতন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টার দিকে আজাদ খান, জাকির শিকদার ও রুবেল শিকদারসহ কয়েকজন তাদের পৈত্রিক জমিতে গাছ কাটতে গেলে বাধা দেন পঙ্কজ মন্ডল (৭০) ও তার স্ত্রী বাসন্তী মন্ডল (৬২)। এ সময় হামলাকারীরা পঙ্কজ মন্ডলকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে এবং বাসন্তী মন্ডলকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক আহত করে।
তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে দম্পতিকে উদ্ধার করে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।
পঙ্কজ মন্ডল জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের ভোগদখলকৃত কাহালপুর মৌজার ৪৩৬৫ নং দাগের রেকর্ডভুক্ত জমি দীর্ঘদিন ধরেই আত্মসাতের চেষ্টা করছে কোদালিয়া ইউনিয়নের জাকির শিকদার, রুবেল শিকদার ও আজাদ খান গং।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ দিবাগত রাত ৩টার দিকে জাকির শিকদারের নেতৃত্বে ৪০–৫০ জন লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায়, ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং একটি টিনের ঘর তুলে জোরপূর্বক জায়গাটি দখলে নেয়। এ সময় তারা “মালাউন” বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ধর্মীয় অবমাননাও করে। জমি নিয়ে কথা বললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে উপস্থিত আটজুড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দুলাল মিয়া ও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কুখ্যাত সন্ত্রাসী। গত ৫ আগস্টের পর থেকেই তারা দখল ও নির্যাতন চালিয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা কোনো শালিশ মানেনি। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার অফিসার ইনচার্জ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও বৈঠক হলেও তারা কোনো সিদ্ধান্ত মানেনি বলে জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, পাঁচপাড়া গ্রামে দুই–একটি মুসলমান পরিবার ছাড়া অধিকাংশই হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে একটি পরিবারকে টার্গেট করে দখল ও নির্যাতন চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্যাতিত পরিবারকে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এলাকায় শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানান।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!