
সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়-গোডাউন ঘরের ভেতর শিশুসহ বেশ কয়েকজন কন্টিনার, বস্তার প্যাকেট থেকে ভিন্ন মেডিসিনের সংমিশ্রন তৈরি করছেন। গোডাউন ঘুরে দেখা যায়, গ্যালাক্সো ক্লিন, গ্যালাক্সো ফাস্ট, গ্যালাক্সো অ্যাকুয়া, গ্যালাক্সো নিল, গ্যালাক্সো গ্রোথসহ নানান পন্যর মোড়ক ও খালি সাদা বোতল রয়েছে। বড়বড় নীল রঙের কন্টিনার ও বিভিন্ন মেডিসিনের বস্তা থেকে ড্রামে ঢালা হচ্ছে এসব মেডিসিন তারপর মিশ্রন ভালোভাবে গুলিয়ে কাকের সাহায্যে ছোট ছোট বোতলে ঢেলে লেভেল লাগিয়ে তা বাজারে ছাড়া হচ্ছে। বোতলের গায়ে গ্যালাক্সো এগ্রোভেট লি: (এষধীড় অমৎড়াবঃ খঃফ.) ঢাকা, বাংলাদেশ কোম্পানির লেভেলিং করে বাজারজাত করছেন তারা। অথচ এই কোম্পানির সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন গ্যালাক্সো এগ্রোভেট।
কোন কেমিস্ট ছাড়াই অনভিজ্ঞ শিশু দ্বারাই তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার ভেজাল মাছের ঔষুধ। বাংলাদেশে রি-প্যাকিং এর অনুমোদন না থাকলেও তারা বড়বড় কন্টিনার থেকে ছোট ছোট বোতলে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে রি-প্যাকিং। সেখানে কর্মরত বেশ কয়েক জনের সাথে এ নিয়ে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে মুখ খোলেনি কেউ।
অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন- রাহাত কর্পোরেশন নামে আমার ডিপো অফিসের অনুমোদন নেয়া আছে। এখানে কোন কিছু তৈরি হয়না, আমি চায়না থেকে মালামাল নিয়ে আসি ছেড়া ফাঁটা মাল গুলো ঠিকঠাক করি এই। অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন- মহাদেবপুর মৎস অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছি। আমার সব কাগজপত্র আছে।
মহাদেবপুর মৎস অফিসে খোঁজ নিয়ে জানাযায়- প্রায় মাস খানেক আগে তিনি মহাদেবপুর উপজেলার ধনজইল বাজারে “রাহাত কর্পোরেশন” নামে মাছের ফিডের কাঁচামাল আমদানি করার জন্য আবেদন করেছেন। যার কোন অনুমোদন দেয়া হয়নি। আবেদনটি এখনো যাচাই বাচাই চলছে।
মহাদেবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় বলেন- তিনি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল আমদানি জন্য আবেদন করেছেন। তাকে কোন অনুমোদন তো দেয়া হয়নি, যাচাই চলছে। আর ধনজইল বাজারের ঠিকানা দিয়ে নওগাঁ সদরের মাঝে গোডাউন এটা তো প্রশ্নই আসেনা। তাছাড়া আবেদনে এক আর প্রডাক্ট করছে আরেক এটা তো
আরেকটা প্রতারণা।
গ্যালাক্সো এগ্রোভেট লি: এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাসিম আহম্মেদ বলেন- নওগাঁয় আমাদের কোন শাখা নেই। আমাদের ফ্যাক্টরি ঢাকাতে। এবং রাজশাহীতে আমাদের অফিস রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের কোথাও কোন অফিস বা ফ্যাক্টরি নেই আমাদের।
তিনি আরো বলেন- আপনাদের মাধ্যমে জানার পর আমি বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়েছি। আমাদের কোম্পানির একজন কর্মচারি আব্দুর রহিম তার নাম, তিনি মহাদেবপুর উপজেলার সিনিয়র মার্কেটিং অফসার হিসেবে দ্বায়ীত্বে রয়েছেন। তিনি এবং মোস্তাফিজুর মিলে আমার কোম্পানির প্রডাক্টের নাম-ঠিকানা হুবহু ব্যবহার করে এসব নকল ঔষধ রি-প্যাকিং করে বাজার জাত করছে।
নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস আলী বলেন-আমরা মাছের ঔষুধ তৈরির কোন অনুমোদ দিইনা। আমাদের দপ্তর থেকে কেউ যদি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল আমদানি করতে চায় সেটার অনুমোদন দেই। ঔষুধ তৈরির তো প্রশ্নই আসেনা।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল