
নিশাত আনজুমান, আক্কেলপুর (জয়পুরহট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের কানুপুর গ্রামের বাসীন্দা সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে প্রায় এক কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহিঃভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ায় দুদকের নঁওগা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার ভিত্তিতে আদালত তাঁর সেই সম্পত্তিগুলো ক্রোক করার নির্দেশ দেন। গত কাল বৃহস্পতিবার (২০নভেম্বর) আদালতের নির্দেশে আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের কানুপুর গ্রামে ফজলুর রহমানের তিন বিঘা ২৫ শতক আবাদি জমির দখল বুঝে নিয়ে লাল পতাকা স্থাপন করেন।
সাবেক সরকারী কর্মকর্তা ফজলুর রহমান উপজেলার কানুপুর গ্রামের মৃত ইসাহাক আলীর ছেলে। তিনি সর্বশেষ যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সামিনার অব অ্যাকাউন্টস হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরে জানুয়ারিতে তিনি অবসরে যান। তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে।
দুদক জানায়, তিনি চাকুরীরত অবস্থায় ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৬ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ও ৮০ লাখ ১৫ হাজার ২৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক নওশাদ আলীর করা মামলায় আদালত জয়পুরহাট শহরের সরদারপাড়া মহল্লার ছয় শতাংশ বাড়ি এবং আক্কেলপুরের কানুপুর গ্রামের আবাদি জমি ক্রোকের নির্দেশ দেন।
ফজলুর রহমানের দাবি, তিনি বৈধ আয়ে সম্পদ অর্জন করেছেন। আয়কর রির্টান ফাইল দাখিলের সময় জমিগুলো ভূলক্রমে দেওয়া হয়নি। জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে তাঁর বড় ভাই শফিউল ইসলাম এমন কাজ করছেন বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। তবে তাঁর বড় ভাই শফিউল আলম বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
দুদকের সমন্বিত নওগাঁ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মেহেবুবা খাতুন জানান, ফজলুর রহমান এক্সমিনার অব একাউন্টস, যৌথ মুলধন কোম্পানী ও ফার্মসমুহের পরিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তিনি চাকুরিতে কর্মরত অবস্থায় ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৯৯৬ টাকার স্থাবর সম্পত্তি ও ৮০ লাখ ১৫ হাজার ২৬ টাকা সম্পদ জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন করেন। দুদকের নওগাঁ জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের তৎকালীন সহকারী পরিচালক নওশাদ আলী বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত ফজলুর রহমানের হেফাজতে থাকা জয়পুরহাট শহরের সরদারপাড়া মহল্লার ছয় শতাংশের একটি বাড়ি ও আক্কেলপুর উপজেলার কানুপুর গ্রামের তিন বিঘা ২৫ শতক আবাদী জমি ক্রোক করার আদেশ দেন। আদালত ওই সম্পতি রক্ষণাবেক্ষেণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে রিসিভার নিয়োগ দেন। গত কাল বৃহস্পতিবার ইউএনও কানুপুর মাঠে সরেজিমিনে গিয়ে জমিগুলো দখল বুঝে নিয়েছেন। এ মামলার চার্জশীর্ট প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর আদালতে চার্জশীর্ট দাখিল করা হবে।
আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবিদা খানম বৈশাখী বলেন, ফজলুর রহমানের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত স্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আদালত আমাকে রিসিভার নিয়োগ করেছেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে তফশিল ভূক্ত তিন বিঘা ২৫ শতক জমির দখল বুঝিয়ে নিয়ে লাল ঝান্ডা পুঁতে দেওয়া হযেছে। আমার এলাকার বাইরে থাকায় জয়পুরহাট সদরে থাকা ছয় শতাংশের বাসাটির দখল বুঝে নেওয়া হয়নি।
জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অস্বীকার করে ফজলুর রহমান বলেন, আমার সব সম্পদ বৈধ। আয়কর রির্টান দাখিলের সময় ভূলক্রমে জমিগুলো ফাইলে তোলা হয়নি। আমাদের ভাইদের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এসুযোগে বড় ভাই শফিউল আলম আমার এই ক্ষতি করেছে।
অন্য দিকে বড়ো ভাই শফিউল আলম বলেন, ছোট ভাইয়ের সঙ্গে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে-এটি সত্য। তবে আমার পরিবারের কেউ দুদকে অভিযোগ করেনি। দুদক আমার ছোট ভাই ফজলুর রহমানের জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ পেয়েছে বলে জেনেছি।#

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল