হোম » সারাদেশ » দোহাজারীতে শঙ্খ নদীর চরে সবজিক্ষেতে এখন বাজারে উৎপাদিত সবজি

দোহাজারীতে শঙ্খ নদীর চরে সবজিক্ষেতে এখন বাজারে উৎপাদিত সবজি

Oplus_131072

মো.শহীদুল ইসলাম,চন্দনাইশ: চন্দনাইশ উপজেলার শঙ্খ নদীর তীরবর্তী দোহাজারী, পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি, সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ, পুরানগড়ু, আমিলাইশ এলাকায় শঙ্খের চরে ও তীরে শীতকালীন রকমারি সবজি উৎপাদন হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখানকার কৃষকেরা শীতকালীন সবজির আবাদ করে বেশ লাভবান হচ্ছে। শীত মৌসুমে শঙ্খ নদীতে চর উঠে। শঙ্খের পাড়ের কৃষকেরা প্রতি বছর এ মৌসুমে নদীতে জেগে উঠা চরে বিভিন্ন প্রজাতির সবজির আবাদ করে চলেছে এবং তারা শীতকালীন সবজি বের করে ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। কৃষকেরা জানান, শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হওয়ার পাশাপাশি শঙ্খ নদীতে জেগে উঠা চরে সবজির আবাদে এখন তারা লাভের মুখ দেখছেন। কারণ শঙ্খ নদীর পাড়ে ও জেগে উঠা চরে সবজির ফলন ভালো হয়। জমির খাজনা দিতে হয় না কৃষকদের।
ফলে দিন দিন বাড়ছে শীতকালীন সবজির আবাদ। এ সকল এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে, শঙ্খ নদীতে জেগে উঠা চরে কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শঙ্খ নদীর পাড় যেন সবুজ চাদরে ঢাকা মাঠ। সেখানে বেগুন, মুলা, কপি, বরবটি, শিম, ঢেড়সসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। যে সকল কৃষকদের বাড়ি নদীর পাড়ে তারা পার্শ্ববর্তী নদীর পাড়ে সবজি চাষাবাদ করে থাকেন। আবার অনেকে নদীতে জেগে উঠা চরে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছে।
বর্তমানে শঙ্খ নদীর লালুটিয়া থেকে ধোপাছড়ি শেষ সীমানা পর্যন্ত শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে ও জেগে উঠা চরে বেগুন, লাউ, শিম, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, টমেটোসহ বিভিন্ন প্রজাতির শাক শীতকালীন রকমারি সবজিতে ভরে গেছে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী মাঠের পাশাপাশি দুই পাড় ও নদীর চর। কৃষক -কৃষণারীও অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে সবজি ক্ষেত পরিচর্যায়। যেন অবসর নেই তাদের। কেউ সবজি ক্ষেতে নদী নদী থেকে থেকে পানি পানি তুলে সেচ দিচ্ছেন, কেউবা স্প্রে, কেউবা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। ক্ষেত থেকেই কৃষকেরা পাইকারি বিক্রি করে দিচ্ছে অনেক সবজি।
তাছাড়া এ সকল এলাকার কৃষকেরা সকালে সবজি ক্ষেত থেকে সবজি তুলে পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী কাঁচা বাজার দোহাজারী রেলওয়ে মাঠে প্রতিদিন সকালে নিয়ে আসে। এসব কৃষকদের মধ্যে দিয়াকুলের আসহাব উদ্দীন ও ফোরকান উদ্দিন জানান, শঙ্খ নদীর তীরবর্তী জমির পাশাপাশি শঙ্খ নদীর পাড়ের ভিতরের অংশে ও নদীতে জেগে উঠা চরে মৌসুমী শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করে তারা লাভবান হয়েছে। কারণ নদীর তীরবর্তী জমিতে খাজনা দিতে হয়, নদীর ভিতরের অংশের পাড়ে ও জেগে উঠা চরে খাজনা দিতে হয় না। তাছাড়া নদীতে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নতুনভাবে পলি পড়ার কারণে মাটি উর্বর থাকে। ফলে সবজি চাষ করতে সার তেমন দিতে হয় না।
তারা বলেন, শীত মৌসুমে শঙ্খ নদীর পাড়ে ও চরে শীতকালীন সবজির মধ্যে বেগুন, মূলা, বরবটি, তিতকরল, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, শিম বিভিন্ন প্রকারের শাকসবজির চাষ করা হয়। বর্তমানে পুরোদমে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ চলছে। বিশেষ করে হাইব্রিড সবজি চাষের কারণে খুব দ্রুত ফলন পাওয়ায় তারা সবজি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে বলে জানান। এভাবে চলবে ৩ থেকে ৪ মাস। এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মো. আজাদ হোসেন বলেছেন, চন্দনাইশের শঙ্খনদী তীরবর্তী এলাকার পাশাপাশি শীত মৌসুমে শঙ্খ নদীতে জেগে উঠা চরে ও নদীর পাড়ের ভিতরের অংশে প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন সবজি উৎপাদন হয়। যা এলাকার শীতকালীন সবজি সময়মত উৎপাদন করতে পারায় লাভবান হচ্ছেন। ফলে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা সচ্ছল জীবনযাপন করছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!