
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানঃ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটসহ ৫ দফা দাবিতে ৮দলের সমাবেশের সভাপতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আগামী ১৩ নভেম্বর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ যদি অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে দেশপ্রেমিক তৌহিদী জনতা তাদেরকে প্রতিহত করবে। তিনি আরো বলেন, যে সকল দফা সংবলিত জুলাই সনদে আমরা সব দল স্বাক্ষর করেছি তার বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ প্রতিহত করা সম্ভব হবে না। অতএব,যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরোধী তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করবে। জীবন থাকতে বাংলার জমিনে আর কোনো ফ্যাসিস্ট জন্ম হতে দিবো না, ইনশাআল্লাহ। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দিতে হবে, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার করতে হবে, সংসদের উভয়কক্ষে পিআর চালু করতে হবে এবং জাতীয় নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন,যারা জুলাই বিপ্লব মানবেন না তাদের জন্য ২৬-এ কোনো নির্বাচন নাই। ২৬ এর নির্বাচন দেখতে হলে আগে জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সহস্রাধিক শহীদের রক্তের সাথে বেঈমানি হবে।পূরণো বন্দোবস্তে ফেরত যাওয়ার জন্য এত মানুষ জীবন দেয় নাই, পঙ্গুত্ব বরণ করে নাই, নিষ্ঠুর ও নির্মম জুলুম নির্যাতনের শিকার হয় নাই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধে পূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া আমাদের অঙ্গীকার।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাইয়ের পীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে আজ ১১জুলাই সোমবার বেলা ২টায় রাজধানীর পল্টন মোড়ে ৮দলের উদ্যোগে আয়োজিত লক্ষাধিক লোকের বিশাল সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি আল্লামা মামুনুল হক বলেন, রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় করেছি, রক্ত দিয়েই নব্য ফ্যাসিবাদের উত্থান প্রতিরোধ করবো। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ তাড়াতে শাপলা চত্বরে রক্ত দিয়েছি,১৯ সালে রক্ত দিয়েছি,২১ সালে রক্ত দিয়েছি, সর্বশেষ ২৪ এর জুলাই আগষ্টে রক্ত দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে উৎখাত করেছি।কেউ যদি জুলাই শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি করে ৭২এর বাকশালী সংবিধানে ফিরে যেতে চায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিপক্ষে দাঁড়ায়, গণভোটের বিপক্ষে দাঁড়ায়, ছাত্রজনতার আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় তাদেরকেও রক্ত দিয়ে প্রতিহত করবো, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন,দেশ আজ স্পষ্টত দুই ভাগে বিভক্ত-একদিকে ৭২ এর বাকশালী সংবিধানপন্থীরা আরেক দিকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী বাংলাদেশপন্থীরা। জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন ও গণভোটের মাধ্যমে আইনি ভিত্তি ছাড়া নির্বাচনের পথে অগ্রসর হলে সরকারকে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে থাকা আট দলের সহজ ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে যে ভাষায় বললে বুঝবেন আমরা সেই ভাষায়ই কথা বলবো। তারপরেও ,সংস্কার ছাড়া ও জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি ছাড়া নির্বাচনের আয়োজন করলে সেই নির্বাচন এদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও সাবেক সাংসদ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা হামিদুর রহমান আযাদ,জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান প্রমুখ।
উল্লেখ্য যে, ৫ দফা দাবিতে জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথে থাকা আট দলের উদ্যোগে এই প্রথম কোনো সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো।
দফা(০১): জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক আদেশ জারি ও আদেশের উপর নভেম্বরেই গণভোট।
দফা(০২): আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু।
দফা(০৩): অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা।
দফা(০৪): ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম নির্যাতন গণ হত্যা ও দূর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
দফা(০৫): স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও চৌদ্দ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট আয়োজনের জোর দাবি জানান।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক