
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী হাফিজা আক্তার আঁখি বলেন- ২০২৩ সালে ২৭ অক্টোবর পারিবারিক ভাবে পাপেল হাসানের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার বাড়ি মেরামত ও সংস্কার করার কথা বলে ৭ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে নেয়। বিয়ের পর তার কর্মস্থল বগুড়া জেলার কাহালু থানায় কর্মরত থাকাকালীন সেখানে ভাড়া বাসায় বসবাস করতাম। এসময় আমি হঠাৎ অসুস্থ হলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ দিন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলে আমার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী আরো বলেন- পাপেল পরে যৌতুক হিসেবে বাবার কাছ থেকে আরো ৫ লাখ টাকা এনে দিতে বলে। টাকা দিতে না পারায় শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতন করে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় এবং ভরণ পোষণ বন্ধ করে দেয়। সংসার খরচ বাবদ টাকার কথা বললে তালাক দেওয়ার হুমকি দেয়। আমার বিয়ের কিছু দিন পর জানতে পারি আগেও আরো দুইটি বিয়ে করেছে। এবং তাদেরকেও একই ভাবে যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে টাকা না দিতে পারায় তাদের তালাক দিয়ে গোপনে আমাকে বিয়ে করেছে। ৭লাখ টাকা যৌতুক নেওয়ার পরেও আমাকে আরো ৫লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিচ্ছে। আমি দিতে অস্বিকৃতি জানালে আমাকেও তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছে।
তিনি আরো বলেন-আমাদের পারিবারিক সমস্যার বিষয়টি নিয়ে সে সময় মাননীয় পুলিশ সুপার, বগুড়া মহোদয়ের নিকট একটি অভিযোগ দাখিল করি অভিযোগ দাখিলের পর আমাকে টেলিফোন নং +৮৮০২৫৮৮৮১৪১৪২ থেকে আমার মুঠোফোনে কল করে জানায় এসব সাংসারিক সমস্যা আমরা সমাধান করি না। আপনে পারিবারিক ভাবে সমাধান করেন, নতুবা কোর্টে মামলা করেন। মাননীয় পুলিশ সুপার, বগুড়া মহোদয় আমার অভিযোগের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে পাবনা জেলায় ঈশ্বরদী থানার পাকশী পুলিশ ফাঁড়িতে তাকে বদলী করেন ।
পরবর্তীতে আমি ঢাকা হেডকোয়াটার্স, বরাবর অভিযোগ দাখিল করি। একই কপি মাননীয় ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ, রাজশাহী বরাবর পোস্ট অফিসের মাধ্যমে প্রেরণ করি এবং মাননীয় পুলিশ সুপার, পাবনাতে স্ব-শরীরে হাজির হয়ে অভিযোগ দাখিল করি। কিন্তু আমার কোন সুষ্ঠ বিচার কোথাও পাচ্ছিনা। আমি সরকারসহ পুলিশ প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাই যাতে করে আমি আমার নায্য অধিকার ফিরে পাই, আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
পাপেল হাসানের প্রথম স্ত্রী (সাবেক) সোনালী বলেন- পাপেল হাসানের পারিবারিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। পুলিশে চাকরির জন্য ২০১২ সালে আমার বাবা ৮ লাখ টাকা দিয়েছিল। চাকরির পর আমাদের বিয়ে হয়। কিন্তু সংসার বেশিদিন টিকেনি। আমাকে তার পছন্দ না। এজন্য সে তালাক দিয়েছে। তবে সে টাকা লোভী মানুষ।
এ ব্যাপারে পাপেল হাসান তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- আমি সরকারি চাকরি করি কেন তাকে ভরণ-পোষণ দিবো না। আদালতে এ বিষয়ে মামলা চলমান আছে। এছাড়া আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছে। সেসব বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে।
অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- ভুক্তভোগী হাফিজা আক্তার আঁখির বাবা রফিকুল ইসলাম, চাচা রফিকুল ইসলাম ও চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

আরও পড়ুন
বগুড়া শাজাহানপুরে ধর্ষণ মামলার পলাতক কিশোর গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বাবু মিয়া ও রিজভীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩