
মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় ভুয়া ওয়ারিশ সনদ ও জন্মনিবন্ধন জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এ চক্রের কারণে নিরীহ মানুষ একের পর এক জমিজমা হারাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে বড়কান্দা ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম নান্নু মিয়ার তিন ছেলে
১. আশরাফ উদ্দিন ওরফে শামসুল হক,
২. সাহাব উদ্দিন,
৩. নিজাম উদ্দিন।
২০০৭ সালে প্রবাসে মারা যান বড় ছেলে আশরাফ উদ্দিন ওরফে শামসুল হক। পরে পারিবারিক বিরোধ এড়াতে রফিকুল ইসলাম নান্নু মিয়া ২০১২ সালে তিন সন্তানের মধ্যে সমহারে জমি বণ্টন করে দেন অছিয়তনামা দলিলের মাধ্যমে।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রতারক চক্র আশরাফ উদ্দিন ওরফে শামসুল হকের নাম জালিয়াতি করে তার পিতার নাম পরিবর্তন করে জন্মনিবন্ধনে সাহাব উদ্দিন দেখিয়ে নেয়। এরপর ওই ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি খারিজ করে বিক্রি শুরু করে তারা।
স্থানীয়রা জানান, প্রতারণার এই মহাসিন্ডিকেটের মূল হোতা বড়কান্দা গ্রামের আজিজ ও তুলাতলী গ্রামের নায়েব আলী। অভিযোগ রয়েছে, তারা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে খারিজ কার্য সম্পন্ন করে থাকে।
আশরাফ উদ্দিন ওরফে শামসুল হকের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছেন
১. আবু সুফিয়ান বুলবুল
২. মোসাঃ আরমিন আক্তার
৩. মোসাঃ তারমিন আক্তার।
কিন্তু প্রতারকদের জালিয়াতির কারণে তাদের জন্মনিবন্ধনে পিতার নাম দেখানো হয়েছে সাহাব উদ্দিন। ফলে বৈধ উত্তরাধিকারীরাও হারাচ্ছেন তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি।
এদিকে প্রকৃত উত্তরাধিকারী সাহাব উদ্দিন নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষায় এখন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তিনি বলেন,
আমি প্রতারকদের হাত থেকে বাঁচতে চাই। আমার বৈধ সম্পত্তি দখল করে নিচ্ছে এই সিন্ডিকেট। প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চাই।
স্থানীয়রা জানান, এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ