
ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে সরকারি “ভিজিডি (ভিডব্লিউবি)” কর্মসূচিতে দুঃস্থ নারীদের বদলে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগ রয়েছে, সুবিধাভোগীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জনপ্রতি দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন। শুধু তাই নয়,তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রতিটি কার্ডধারীর কাছ থেকে আরও একশ’ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তালিকায় স্থান পাওয়া ৪৪০ জনের মধ্যে প্রায় ৫০ জনই প্যানেল চেয়ারম্যানের আত্মীয়—তাদের মধ্যে কেউ কেউ বড় পাকা বাড়ির মালিক, কারও রয়েছে ৬-৮ বিঘা ফসলি জমি ও পুকুর। এদের কেউই প্রকৃত অর্থে ভিজিডি কর্মসূচির সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্য নন। ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য এবং ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম তার স্ত্রী, দুই ভাইয়ের স্ত্রী,মামি,খালা,চাচি,ভাগনীসহ একাধিক আত্মীয়ের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। এমনকি তার এক ভাগনী পেশায় চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে নামটি বাতিল করা হয়।
স্বজনদের নামের তালিকায় দেখা গেছে-২১২ নম্বরে মাফুজা খাতুন ও ২৩০ নম্বরে সেলিনা খাতুন তার বড় ভাইয়ের দুই স্ত্রী,২১০ নম্বরে খোতেজা সম্পর্কে মামি,২১৪, ২১৬, ২১৭ নম্বরে রিমা বেগম, আলেয়া বেগম, আমেনা বেগম সম্পর্কে চাচি,১৮২ নম্বরে শেফালী বেগম সম্পর্কে খালা,১৯১ নম্বরে রাজিয়া সুলতানা সম্পর্কে ভাবী (চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী)।
এই তালিকার বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অনলাইনে আবেদনকৃত ১,০২৭টি আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে গত ৩০ জুন ইউপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ট্যাগ অফিসার, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে ৪৪০ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়।তবে তদন্তে দেখা যায় ৫৩ জনই প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
বাঘোপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মহসিন আলী বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল একজন দুর্নীতিবাজ। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও সে গরিবের হক আত্মীয়দের দিয়ে দিয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদে কাজের জন্যও নাকি ঘুষ লাগে।
এক সুবিধাভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমি গরিব মানুষ। কার্ড পাওয়ার জন্য শফিকুল আমাকে ৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করেছে। আল্লাহ বিচার করবেন।
প্যানেল চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কাউকে তালিকায় ঢোকাইনি। মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার দপ্তর এবং ট্যাগ অফিসাররাই যাচাই-বাছাই করে তালিকা করেছেন। আমার স্ত্রী বা আত্মীয়দের নাম তালিকায় থাকলেও সেটা আমি দেইনি।”
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত গরিব হলেও জনপ্রতিনিধির আত্মীয় হতে পারে। তাই বলে তারা কি বঞ্চিত হবে? তবে শফিকুলের ভাগনীর নাম ছিল, সেটি সত্য,তার স্ত্রীর নাম তালিকায় ছিল না।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা নাসরিন জাহান বলেন, শফিকুল ইসলাম মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজের স্ত্রী ও আত্মীয়দের নাম তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্ত্রী ও এক চিকিৎসক ভাগনীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বাকি আত্মীয়দের বিষয়ে তদন্তের পর প্রমাণ মিললে তাদের নামও বাদ দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাত বলেন, নীতিমালার ভিত্তিতেই তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। কেউ ভুয়া তথ্য দিয়ে আত্মীয়-স্বজনের নাম ঢুকিয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি টাকা নেওয়ার অভিযোগ আনেন, সেটিও গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার