হোম » সারাদেশ » নোয়াখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

নোয়াখালীতে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

মোহাম্মদ হানিফ: নোয়াখালীর সুবর্ণচরে গভীর রাতে স্বামীর সঙ্গে পুকুরে গোসল করতে গিয়ে নাসিমা বেগম (২৮) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্ন।
মৃত গৃহবধূ চর নোমান গ্রামের বাসিন্দা মাইন উদ্দিনের স্ত্রী। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ঘটনার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের পর দুজন মিলে বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নামেন। গোসলের পাশাপাশি কাপড় ধোয়ার কাজ করছিলেন নাসিমা। স্বামী গোসল সেরে কিছুক্ষণ পর ঘরে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন।
কিন্তু রাত ৪টার দিকে ঘুম ভেঙে স্ত্রীকে পাশে না দেখে খোঁজ শুরু করেন তিনি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজনসহ পুকুরে গিয়ে দেখা যায়, নাসিমা বেগমের নিথর দেহ ভেসে আছে পানিতে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা, নির্যাতন কিংবা অপমৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। গভীর রাতে একটি গৃহবধূ কেন পুকুরে গোসল করতে যাবেন? সেখানে তিনি একা কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন, নাকি অন্য কোনো অজানা ঘটনা রয়েছে এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মনে।
চর নোমান গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, এই এলাকায় রাত ৩টার সময় কেউ পুকুরে যায় না। স্বামীর সঙ্গে গোসল, কাপড় ধোয়া সব মিলিয়ে বিষয়টি অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক মনে হচ্ছে। পুলিশ তদন্ত করলেই আসল ঘটনা বের হবে।
নাম প্রকাশে অনেক একজন নেতা বলেন , এমন অস্বাভাবিক সময়ের কর্মকাণ্ড সাধারণত সন্দেহের উদ্রেক করে। বিশেষ করে নারী নির্যাতন বা গৃহবিবাদের মতো বিষয়গুলো এখানে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনগতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা জরুরি।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে এটি পানিতে ডুবে মৃত্যু বলেই মনে হচ্ছে। তবে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সুবর্ণচরের চর নোমান গ্রামে নাসিমা বেগমের মৃত্যুর ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গোপন রহস্য তা এখন সময়ই বলে দেবে। তবে এই অস্বাভাবিক মৃত্যু তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া জরুরি, যাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন মিয়া বলেন, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!