
ফয়সাল হাসান
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল চোর চক্রের ৩ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিএমপি’র মহানগর গোয়েন্দা (বন্দর) বিভাগ। এসময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন—মোট ১৪৮টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সেট এবং ২টি উন্নতমানের এসএলআর ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ডিবি (বন্দর) টিম-৫১ কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা ও চৈতন্যগলিতে অভিযান চালিয়ে এসব উদ্ধার করে।
অভিযোগ থেকে অভিযান শুরু — এর আগে, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ চান্দগাঁও থানার খাজারোড এলাকার বাসিন্দা মোঃ আকবর হোসেন ডিবি (বন্দর) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি জানান, ২৪ আগস্ট ভোরে তার জাহাঙ্গীর কলোনীর টিনশেডের বাসা থেকে তার ব্যবহৃত Vivo Yo3t মডেলের মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়।
অভিযোগের ভিত্তিতে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-বন্দর) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক টিম-৫১ এর এসআই (নিঃ) মোঃ ইমাম হোসেনকে চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব প্রদান করেন।
গোয়েন্দা নজরদারিতে চক্রের আসল চেহারা —তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালানো হয়। প্রথম ধাপে, কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন রেলস্টেশনস্থ জিআরপি থানার সামনে পুরাতন হকার্স মার্কেট এলাকায় জনৈক সোহেল মিয়ার মোবাইলের দোকানে তল্লাশি চালিয়ে একটি কালো ব্যাগের ভেতর থেকে ৪৮টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এসময় চোর চক্রের মূল হোতা—
আসামী ১: মোঃ সোহেল মিয়া (৩৩), পিতা মৃত খসরু মিয়া, সাং-মানিকখালী, কিশোরগঞ্জ। তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপের অভিযান — গ্রেফতারকৃত সোহেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাত ৯টা ২০ মিনিটে কোতোয়ালী থানাধীন চৈতন্যগলির জিন্নাপাড়ার ইয়াছিন সাহেবের বিল্ডিং-এর ৫ম তলায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে ভাড়াকৃত কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় আরও ১০০টি মোবাইল ফোন এবং ২টি এসএলআর ক্যামেরা। সেখান থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের আরও দুই সদস্যকে—আসামী ২: মোঃ আব্দুল হাকিম ওরফে রাকিব (২৭), পিতা মোঃ আবুল খায়ের, সাং-হারামিয়া, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম। আসামী ৩: মোঃ ইয়াছিন (২০), পিতা মোঃ ইলিয়াছ মিয়া, সাং-মধ্যাম বাসুয়া, ফুলগাজী, ফেনী।
দীর্ঘদিনের পেশাদার অপরাধী — গ্রেফতারকৃত আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে তারা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় মোবাইল চোর চক্রের সাথে সম্পৃক্ত। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজন মোবাইল ছিনতাইকারীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, আসামী মোঃ সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় এফআইআর নং-৩৯, তারিখ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ধারা-৪১৩/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ ইমাম হোসেন জানান, “আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত চোর চক্রের অবস্থান শনাক্ত করি। রাতভর অভিযানে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ও ক্যামেরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। চট্টগ্রামের মানুষকে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির ভয় থেকে মুক্ত রাখতে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ সফল অভিযানে নেতৃত্ব দেন— উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-বন্দর) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক,পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ধীমান মজুমদার,এসআই (নিঃ) মোঃ ইমাম হোসেন (অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা) সহকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ জয়নাল আবেদীন এবং টিম-৫১ এর অন্যান্য ফোর্স।
চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ সর্বদা সতর্ক, সজাগ ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন
বাঘায় পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির লিখিত অভিযোগ, অফিসে উত্তেজনা
বগুড়া শাজাহানপুরে ধর্ষণ মামলার পলাতক কিশোর গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বাবু মিয়া ও রিজভীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা