হোম » সারাদেশ » লাখ টাকার পাওনাদারের কোটি টাকার মামলায়, নিঃস্ব ইট ভাটার মালিক সেলিম

লাখ টাকার পাওনাদারের কোটি টাকার মামলায়, নিঃস্ব ইট ভাটার মালিক সেলিম

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ইট ভাটার মালিকের নামে লাখ টাকার পাওনাদারের কোটি টাকার চেকের মামলায় নিঃশ্ব হয়ে আত্মগোপনে ইটভাটার মালিক।
জানা গেছে  ইটের লাভের আসায় অনেক গ্রাহক অগ্রিম ইট বাবদ টাকা প্রদান করতেন, ভাটার মালিকের কাছে। তবে সেই টাকা বাবদ লভ্যাংশ সহ বিগত আ.লীগ সরকারের আমলে কিছু নেতার মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে ব্লাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিতেন গ্রাহকগণ।
পরবর্তীতে ইট ভাটায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় টাকা ফেরত দিতে না পারায় অধিকাংশ পাওনাদার লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন ইট ভাটার মালিক শামসুজ্জামান সেলিম এর নামে। বর্তমানে তিনি নিঃশ্ব হয়ে পাওনাদারদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার। যানা গেছে হাতীবান্ধা উপজেলার ভেলাগুড়ী ইউনিয়নে ২০১৮ সালে স্থাপিত  এম এস এম ও ২০২০ সালে টংভাঙ্গা ইউনিয়নে জে আর এস নামে দুটি ইট ভাটা চালু করা হয়। যাহার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শামসুজ্জামান সেলিম। ইট ভাটা পরিচালনা করতে গিয়ে লভ্যাংশের আসায় অগ্রিম ইটের টাকা দিতেন অনেক গ্রাহক।
আর এই টাকা বাবদ প্রমান হিসেবে কেউ নিতেন ইট ভাটার রশিদ আবার কেউ নিতেন ব্যাংকের চেক। কয়েক বছর গ্রাহকদের টাকার লভ্যাংশ দিলেও ২০২৩ সালে এসে ইট ভাটায়  ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় প্রায় কয়েক কোটি টাকার লোকশান হয়। আর এতে ইট ভাটার মালিক শামসুজ্জামান সেলিম মানুষের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে তিনি নিজের জমি জায়গা বিক্রি করে কিছু টাকা পরিশোধ করলেও এখনও রয়ে গেছে কয়েক কোটি টাকার পাওনাদার।
স্থানীয় ভাবে জানা গেছে ইট ভাটার লোকশান হওয়ায় ২০২৩ সাল থেকে ২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতাদের মাধ্যমে বেশ কিছু গ্রাহক শামসুজ্জামান সেলিমকে বিভিন্ন ভাবে আটকে রেখে ও হুমকি দিয়ে ব্লাঙ্ক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়, যাহা পরবর্তীতে লভ্যাংশ নেওয়ার পরও পাওনা টাকার ৫ থেকে ১০ গুন বেশি লিখে আদালতে মামলা করেন। এমন প্রায় ২৮টি চেকের কয়েক কোটি টাকার  মামলায় নিঃশ্ব হয়ে কয়েকবার জেল হাজতে যায় শামসুজ্জামান সেলিম। পরে জামিনে এসে পাওনাদারদের চাপে বর্তমানে ওই ইট ভাটার মালিক শামসুজ্জামান সেলিম নিজেকে আত্মগোপনে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকজন।
এমতাবস্থায় গত ১৭ জুলাই ২৫ ইং তারিখে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার নারায়ন চন্দ্র রায় নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার মামলা করেছেন মর্মে কয়েকটি অনলাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করেন, সেখানে উল্লেখ করেন যে ইট ভাটার মালিকের নামে ও কাকিনা মোস্তফাবিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল কাদের এর বিরুদ্ধে ও একটি মামলা করা হয়। পরে এবিষয়ে ওই ইট ভাটার মালিক শামসুজ্জামান সেলিম একটি সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন যে মাওলানা আব্দুল কাদের আমার ভাটার কোন পার্টনার নয়, নারায়ন চন্দ্র বর্মন এর ইটের অগ্রিম টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে মাওলানা আব্দুল কাদের মাধ্যম হিসেবে একটি চেক প্রদান করেন নারায়ন চন্দ্র বর্মনের কাছে, পরে ইট ভাটার মালিক শামসুজ্জামান সেলিম ইটের লভ্যাংশ সহ  একটি চেক প্রদান করেন নারায়ন চন্দ্র বর্মনের কাছে।
কিন্তু মাওলানা আব্দুল কাদেরের দেওয়া চেকটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন ভাবে তালবাহানা করে তা আর ফেরত দেয়নি নারায়ন চন্দ্র বর্মন। পরে ওই দুইটি চেক দিয়ে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পৃথক পৃথক দুটি মামলা করেন নারায়ন চন্দ্র বর্মন। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে শামসুজ্জামান সেলিম বলেন নারায়ন চন্দ্র বর্মন মাওলানা আব্দুল কাদেরকে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মামলা করেছে। এবিষয়ে শামসুজ্জামান সেলিম বলেন আমি প্রতিজ্ঞা করছি যারা আমার কাছে টাকা পায় আমি সকলের টাকা দিবো কিন্তু আমাকে কিছুদিন সময় দিতে হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!