হোম » সারাদেশ » অর্ধকোটি টাকার আঙুর বিক্রির সম্ভাবনা, আঙুর চাষে ঝিনাইদহের রশিদের বাজিমাত

অর্ধকোটি টাকার আঙুর বিক্রির সম্ভাবনা, আঙুর চাষে ঝিনাইদহের রশিদের বাজিমাত

মো:রাফাত হোসেন,কালীগঞ্জ ,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: সুমিষ্ট দেশি আঙুরে ভরছে বাজার, রশিদের দেখানো পথে হাঁটছে অনেকেই। ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যুগীহুদা গ্রামের আব্দুর রশিদ দেশে আঙুর চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। ইউটিউবে দেখে শেখা প্রযুক্তির সহায়তায় শুরু করা এই আঙুর চাষ তাকে এনে দিয়েছে ব্যাপক সাফল্য। বর্তমানে ৩ বিঘা জমিতে তার ৭০০টি আঙুর গাছে থোকা থোকা ফল ধরেছে, যেগুলোর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।

২০১৯ সালে মাত্র ১০ কাঠা জমিতে ছমছম ও সুপার সনিকা জাতের ৭৫টি গাছ রোপণ করে যাত্রা শুরু করেন রশিদ। নানা প্রতিবন্ধকতা ও আশপাশের লোকজনের নিরুৎসাহ সত্ত্বেও থেমে যাননি তিনি। এখন তার সাফল্য দেখে অনেকেই আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

আব্দুর রশিদ জানান, “শুরুতে সবাই বলতো, এই মাটিতে আঙুর হবে না, হলেও খাওয়ার মতো হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস হারাইনি। আজ তারাই এসে বাহবা দিচ্ছেন।” রশিদ জানান, বর্তমানে তার বাগানে ৭ ধরনের আঙুর রয়েছে- লাল, কালো ও সবুজ রঙের ফলগুলো শুধু দৃষ্টিনন্দনই নয়, স্বাদেও অতুলনীয়। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি ফল ধরেছে। পাইকাররা গাছ থেকে সরাসরি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা দরে আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তার আশা, এবারের মৌসুমে চারাসহ আঙুর বিক্রি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন বলেন, “প্রথমে আমরা ভাবতাম এই মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু রশিদ ভাই প্রমাণ করে দিয়েছেন—চেষ্টা থাকলে সবই সম্ভব।” আঙুরের স্বাদ সম্পর্কে দর্শনার্থী জালাল উদ্দিন বলেন, “এত সুমিষ্ট, ফরমালিন- মুক্ত টাটকা আঙুর আগে কখনো খাইনি। ফেসবুকে ছবি দেখে এসেছি, বাস্তবে এসে দেখে মুগ্ধ হয়েছি।”

মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জানান, “আমি নিজে রশিদ ভাইয়ের বাগান পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি গাছে প্রচুর আঙুর ধরেছে। এসব আঙুর বাজারের আমদানিকৃত আঙুরের চেয়ে স্বাদে অনেক ভালো।” দেশে যদি এভাবে আঙুর চাষ ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!